জগন্নাথপুরের নলজুর সেতুর এ্যাপ্রোচ- দুই মাসেও সংস্কার হয়নি ৩ ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগ

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের নলজুর সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কটি (এ্যাপ্রোচ) ধসে পড়ায় সড়কটি দিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলা সদরের সঙ্গে এখানকার তিনটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ অবস্থায়  উপজেলার তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষজনকে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  ২০১৩ সালের মে মাসে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি নলজুর নদীর ওপর ঘোষগাঁও নামক স্থানে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯.১৫ মিটার গার্ডার সেতুর উদ্বোধন করেন। কিন্তুু সংযোগ সড়কের (এ্যাপ্রোচের) জায়গার  পশ্চিম অংশের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় এ্যাপ্রোচের কাজ শেষ হয়নি। বিকল্প এ্যাপ্রোচ ব্যবহার করে যান চলাচল শুরু হয়। এই সড়কটির ওপর দিয়ে এখানকার রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি তিনটি ইউনিয়নের মানুষ উপজেলা সদরে আসা যাওয়া করেন।  এটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।
ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলার কারণে সেতু উদ্বোধনের চার বছর পরও সংযোগ সড়কের (এ্যাপ্রোচের) জায়গা অধিগ্রহণ হয়নি। যে কারণে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প এ্যাপ্রোচে যান চলাচল করছিল। গত ৬ ডিসেম্বর সেতুর মুখের সংযোগ সড়কটিও ধসে পড়ে। এতে করে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নুরুল ইসলাম বলেন, নলজুর সেতু দিয়ে এখানকার তিনটি ইউনিয়নের মানুষজন উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। অপরদিকে উপজেলা সদরের বাসিন্দারা কম সময়ে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের বেগমপুরে যাতায়াত করতে পারেন এই রাস্তা ব্যবহার করে। সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে।
এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, নলজুর সেতুর এ্যাপ্রোচ ধসের পর পর দ্রুত কাজটি করতে সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি। তিনি সরেজমিনে এসে দেখে গেছেন।
সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী  সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ্যাপ্রোচটি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা সংস্কার করতে সময় লাগবে। দরপত্র আহ্বান করে কাজ করতে হবে। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধানে আমরা উপজেলা পরিষদ থেকে এটি সংস্কার করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি।



আরো খবর