জগন্নাথপুরের ৭২টি বাঁধের কার্যাদেশ হয়নি- অব্যাহতি নিতে পারেন অনেক পিআইসি সদস্য

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের ৭২টি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) পিআইসি এখনো নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পাননি। উপজেলার ৮৫টি পিআইসির মধ্যে ১৩টি পিআইসিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়ছে। যেসব পিআইসি  বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ পাননি তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অধিকাংশ পিআইসি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে যদি কার্যাদেশ প্রদান করা না হয় তাহলে পিআইসি কমিটি থেকে অব্যাহতি নেবেন তারা।  
জানা যায়, গত বছরের পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নিার্মত নি¤œমানের বেধিবাঁধ ভেঙে জগন্নাথপুরের সব ক’টি হাওরের আধাপাকা সফল পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে নানা কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে কৃষকদের।
এবার বোরো ফসল চাষাবাদের শুরুতেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়েন কৃষকরা। হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় শুরু থেইে বোরো আবাদ ব্যাহত হতে থাকে। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারপরও কৃষকরা থেমে নেই। বুকে সাহস নিয়ে হাওরে নেমেছেন চাষাবাদে।
এবছর জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া হাওরসহ উপজেলার ৮৫টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। ৮৫টি পিআইসি’র মধ্যে মাত্র ১৩টি পিআইসি’র কার্যাদেশ পাওয়ায় ওই সব প্রকল্পে  কাজ শুরু করেছে। অপর দিকে ৭২টি পিআইসি এখনো বাঁধ নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পায়নি। যে কারণে বেড়িবাঁধের কাজও শুরু করতে পারেনি ওইসব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি।
জগন্নাথপুরের প্রধান নলুয়া হাওরের  বেতাউকা বেড়িবাঁধের পিআইসি’র সভাপতি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন,‘ বাঁধ নির্মাণের সঠিক সময়  হচ্ছে এখন। কিন্তু কার্যাদেশ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছি না।’
তিনি বলেন,‘এ সপ্তাহের মধ্যে যদি কার্যাদেশ না পাওয়া যায়, তাহলে পিআইসি থেকে অব্যাহতি নেব। কারণ অসময়ে কাজ করা মানে নিজের বিপদ তৈরি করা।’
আরেক পিআইসি’র সভাপতি রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাজমুল হোসেন বলেন,‘বার বার সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে আসছি বাঁধের কার্যাদেশ প্রদানের জন্য। তারপরও কোন সুফল পাচ্ছি না।’ এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যাদেশ না পাওয়া গেলে তিনিও পিআইসি থেকে অব্যাহতি নেবেন বলে জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জগন্নাথপুরের বেড়িবাঁধের কাজের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘দ্রুত কার্যাদেশ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট উধর্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি এ সপ্তাহে কার্যাদেশ পাওয়া যাবে।’
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন,‘আমি বার বার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি কার্যাদেশ প্রদানের জন্য। এই মুহূর্তে যদি কাজ শুরু করা না যায় তাহলে বিঘিœত হতে পারে বেড়িবাঁধের কার্যক্রম।’