জগন্নাথপুরে অস্থানীয়দের নিয়োগ প্রতিহত করতে হবে

জগন্নাথপুরের বাসিন্দা সেজে সরকারি চাকুরি বাগিয়ে নেয়া একটি পুরোনো ঘটনা। এই অঞ্চলে একসময় শিক্ষিতের হার কম ছিল। যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যেত না। এই সুযোগটি গ্রহণ করত বহিরাগতরা। তারা নানাভাবে জগন্নাথপুরের স্থায়ী বাসিন্দা সেজে নিয়োগপত্র পেয়ে একসময় নিজেদের এলাকায় বদলি হয়ে যেত। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে এই প্রবণতা ছিল সবচাইতে বেশি। চাকুরি পেয়ে বদলি হয়ে যাওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলায় সবসময়ই শিক্ষক সংকট লেগে থাকত। এই কারণে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান সক্ষমতা সবসময়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন অবস্থা পাল্টেছে। জগন্নাথপুরে শিক্ষার হার ও মান অনেক বেড়েছে। চাকুরিপ্রত্যাশী স্থানীয়দের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু বহিরাগতদের জগন্নাথপুরের স্থায়ী বাসিন্দা সেজে চাকুরি নেয়ার পুরোনো প্রপঞ্চটি বিদায় নেয়নি এখনও। গতবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু নিয়োগপ্রাপ্তর বিরুদ্ধে অস্থানীয় সেজে চাকুরি নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভও সংগঠিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন অভিযোগ মোতাবেক কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল কিনা অথবা কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কিনা সেই তথ্য আর পাওয়া যায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে কিছুদিন আগে এবারের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে সহকারি শিক্ষক পদে ৫০১ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে অতীতের মতোই অস্থানীয় প্রার্থী রয়েছেন উল্লেখ করে এবারও স্থানীয় প্রার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করেছেন। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অস্থানীয় প্রার্থীরা ভুয়া নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্র সংগ্রহ করতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। এদের দাপটে স্থানীয়রা চাকুরিবঞ্চিত থাকবেন আশংকা করে প্রতিবাদকারীরা অস্থানীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের এই প্রতিবাদ যৌক্তিক। নিজেদের অধিকার কেন তারা অন্যদের দিয়ে দিবেন? সুতরাং কর্তৃপক্ষকে শুরু থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জগন্নাথপুরের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জনপ্রতিনিধিরা অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন তাঁরা কাউকে ভুয়া সনদপত্র প্রদান করবেন না। জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই সনদপত্র প্রদানের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এমন সনদপত্র সংগ্রহ করতে না পারেন সে বিষয়টি তাঁদেরকে নিশ্চিত করতে হবে স্থানীয়দের স্বার্থেই। যারা এ নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেছেন তাঁদেরকে বাতাসে তলোয়ার চালানোর পরিবর্তে প্রতিবাদকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে। যে ৫০১ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন তাদের মধ্যে কারা অস্থানীয় সেটি তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নাম-ঠিকানা শিক্ষা অফিস থেকে সংগ্রহ করা কঠিন কোনো কাজ হবে না। যদি তারা অস্থানীয় চিহ্নিত করে তাদেরকে বাদ দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাহলে সেটি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। আমরা আশা করব প্রতিবাদকারীরা নিজেদের দাবির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। নতুবা তাদের শূন্যগর্ভে আস্ফালন থেকে কোন ফলোদয় ঘটবে না।
শুধু জগন্নাথপুর নয়, জেলার অন্য যেখানে অনুরূপ প্রবণতা রয়েছে সেখানেই এমন পদক্ষেপ বাঞ্ছনীয়। সরকার স্থানীয়দের জন্য যে অধিকার সংরক্ষিত রেখেছেন সেটিকে হরণ করার যেকোনো তৎপরতা অন্যায্য। এই অন্যায্যতার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা কাম্য। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে স্থানীয়-অস্থানীয় ইস্যুটি সংবেদনশীলতার সাথে যাচাই-বাছাই করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আশা করব, অতীতে যা হওয়ার হয়েছে, এবার অন্তত এই জেলায় অস্থানীয় কেউ শিক্ষকতার চাকুরি বাগাতে সক্ষম হবে না।