- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে আমন ধান কাটার উৎসব

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরজুড়ে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটার উৎসব। নবান্নের মাস অগ্রহায়ণ শুরু হতেই কৃষকরা পাকা ধান কাটার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। অনেকেই ধান কেটে গোলায় তুলতে শুরু করেছেন। হাওরজুড়ে এখন পাকা আধাপাকা ধানের শীষ দোলছে। কোন কোন কৃষক ধান কাটছেন আবার কোন কোন কৃষক বাড়ির আঙ্গিনা প্রস্তুত রাখছেন।
কৃষকরা জানান,পোকামাকড়ের আক্রমণ ও কোন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে না পড়ায় আমনের ফলন হয়েছে ভাল। এখন ধান গোলায় তুলতে পারলে তাদের কষ্টার্জিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। তবে ধানের নায্যদাম না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে কৃষকদের মনে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার ৮১৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে।
গতকাল রোববার জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরে হাওরে পাকা আধাপাকা ধানের শীষ দোলছে। হাওরে হাওরে চলছে ধান কাটার উৎসব।
জামাইকাটা হাওরে কথা হয় বড়কাপন গ্রামের কৃষক দিপন পালের সঙ্গে। তিনি বলেন,এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে তাই কৃষকরা খুশি। তিনি ছয় কেদার জমির মধ্যে তিন কেদার জমির ধান কেটে ৪০মণ ধান পেয়েছেন।
পাটলী ইউনিয়নের শ্যামহাট গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সুরুজ আলী জানান, আমনের ফলনে খুশি হলেও নায্য দাম না থাকায় কৃষকরা ভাল নেই। তিনি গত বোরো মৌসুমেও কৃষকরা ধানের নায্য দাম পাননি। এখনো বাজারে ৬০০ টাকা দরে ধান বিক্রি হচ্ছে।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক সিরাজুল হক জানান, আমন ধান আমাদের হাওর অঞ্চলের জন্য অন্যতম ঐতিহ্য। এ ধানের নতুন চাল দিয়ে ঘরে ঘরে পিঠা পায়েশের আয়োজন চলত। গ্রামে গ্রামে হতো নবান্নের উৎসব। এখন অনেকটা ম্লান হয়ে গেলেও গ্রামীণ জনপদের মানুষ এখনো তা ধরে রেখেছে। তিনি কৃষকদের কে বাঁচাতে ধানের নায্য দাম নিশ্চিতের দাবি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৯০০ হেক্টর। ৮১৬০ হেক্টর আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

  • [১]