জগন্নাথপুরে কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের নদী তীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট-হাটবাজারসহ বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে গত তিনদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লোকজন। হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের একটি বাঁধ। একটি ভেঙে গেলে পুরো জগন্নাথপুর বন্যা কবলিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ার নদীর পাড়স্থ জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর ভাঙাবাড়ি নামকস্থানে বেড়িবাঁধটি পানির প্রচন্ড চাপে হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় চারশত মাটির বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার প্রচেষ্টা চলছে। এদিকে শনিবার আলীপুর-ইনাতগঞ্জের খাল দিয়ে পানি প্রবেশে করে তলিয়ে গেছে কুশিয়ার নদীর তীরবর্তী বিস্তৃর্ণ এলাকা। তলিয়ে গেছে জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের পূর্ব কাতিয়া আলালখালির পূর্ব দিক হইতে বড় ফেচিবাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা। ফলে ওই সড়কে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া বড়ফেচি বাজার, পূর্ব জলালপুর, কাতিয়া, পূর্ব কাতিয়া, নতুন কসবা গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
বড় ফেচিবাজারের ব্যবসায়ী হাবিল খান বলেন, ‘আজকে (সোমবার) পানি আরো বেড়েছে। অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। আমরা খুবই দুর্ভোগে পড়েছি ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে।’
জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের পরিবহন নেতা আবদুল মুকিত বলেন, সড়কের এক কিলোমিটার এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত তিনদিন ধরে ওই সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সেলিম খান বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অনেক ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। দিন দিন পানি বাড়ছেই। লোকজন কষ্টের মধ্যে পড়েছেন।’
বড় ফেচিবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘অব্যাহত বৃষ্টিপাতে ও পাহাড়ি ঢলে পুরো বাজারে পানি উঠে গেছে। বাজারের নিচু এলাকায় কোন কোন দোকান ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। বাজারে উরু থেকে হাঁটু পানি পর্যন্ত রয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য অদুদু মিয়া বলেন, ‘পাহারি ঢল ও গত কয়েকদিনের বর্ষণে ৪/৫টি গ্রামসহ রাস্তা-ঘাট-হাটবাজারে পানি প্রবেশ করেছে। হুমকির মুখে পড়েছে কুশিয়ারাপাড়স্থ জলালপুর ভাঙাবাড়ি নামকস্থানের বেড়িবাঁধ। আমরা মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, এ বাঁধটি ভেঙে গেলে পাইলগাঁও ইউনিয়নসহ জগন্নাথপুরের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্ধ হয়ে পড়বে।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি পরিদর্শন করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।’