জগন্নাথপুরে খুলে দেওয়া হচ্ছে ফসলরক্ষা স্লুইচগেট

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে নলুয়া হাওরের ফসলরক্ষায় নির্মিত সব ক’টি স্লুইচ গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক সভায় এ সিন্ধান্ত হয়। জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়, সর্বসম্মতিক্রমে সিন্ধান্ত হয়, হাওরের ধান কাটার কাজ শেষ। কিছু সংখ্যক কৃষক কাটা ফসল নিয়ে হাওরে বিপাকে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে হাওরের অধিকাংশ যাতায়াত সড়কে পানি উঠে গেছে। ফলে ফসল উঠিয়ে আনতে পরিবহনের মারাত্মক সমস্যা দেখা গিয়েছে। তাই হাওরে বন্ধ থাকা স্লুইচ গেটগুলো খোলে দেওয়া হলে নৌকা যোগে কৃষকরা ওই সব ফসল তোলে আনতে পারবেন। এছাড়া বেড়িবাঁধগুলোর ঝুঁকি কম থাকবে।
নলুয়া হাওর বেষ্টিত চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, নলুয়া হাওরের ধান কাটা শেষ। অব্যাহত ভারি বর্ষণে হাওরের যাতায়াতের রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এ কারণে কাটা ধানগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। স্লুুইচগেটগুলো খুলে দেওয়া হলে নৌকা দিয়ে সহজে ধানগুলো তোলে আনা যাবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জগন্নাথপুর উপজেলার আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসীর আহমদ বলেন, উপজেলার সব’কটি হাওরের ফসল কাটা শেষ হয়ে গেছে। হাওরে সামান্য সংখ্যক কৃষকের কর্তন করা ধান পড়ে আছে। আমরা এরমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি, হাওর থেকে ধান তোলে নেওয়ার জন্য। আজ (শুক্রবার) স্লুইচগেটগুলো খুলে দেওয়া হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, এবার নলুয়া হাওরসহ উপজেলার ছোট বড় ৯টি হাওরে ২১ হাজার ৫শত হেক্টর বোরো ফসলের আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যেই সব হাওরের ফসল কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। গোলায় উঠেছে প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষকের ধান।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে স্লুইচ গেটগুলো খুলে দেওয়ার সিন্ধান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরে ফসলরক্ষায় ৪টি স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হয়েছে। হাওরের ফসলরক্ষায় এসব স্লুইচগেট নির্মিত হয়।