জগন্নাথপুরে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি সড়ক অচল, লাখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সড়ক অচল হয়ে পড়েছে। আইনী জটিলতা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাসখানেক ধরে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে লাখো মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুরের ভবেরবাজর-নয়াবন্দর- গোয়ালাবাজার সড়কের ১১ কিলোমিটার দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকার পর ২০১৫ সালে সংস্কার কাজের চার কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ পায় সজিব রঞ্জন দাশ এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের ১৩ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সামান্য কিছু কাজ করার পর বন্ধ হয়ে যায় কাজ। এজন্য ঠিকাদারকে ওই বছরের অক্টোবর মাসে চুক্তি বাতিলের চিঠি দিলে ঠিকাদার ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর হাইকোর্টে শরণাপন্ন হয়ে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য রিট পিটিশন দায়ের করেন। এর পর থেকে আইনী জটিলনায় সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে এই ভাঙা-চুড়া সড়কটি আরও ভেঙে গিয়ে এখন আরও ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে।
আশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমীর খান সাব্বির বলেন, ভবেরবাজার-নয়াবন্দর-কাঠালখাইড়- গোয়ালাবাজর সড়কের দুর্ভোগের কথা বর্ণনা করার ভাষা নেই। এই একটি সড়কের কারণে আশারকান্দি ইউনিয়নজুড়ে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকান্ড ম্লান করে দিচ্ছে।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দ্বিনুল ইসলাম বাবুল বলেন, অনেকদিন ধরে সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটি বৃষ্টিপাত আর বন্যায় ভেঙে ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের ১৩ কিলোমিটার সড়ক অনেকদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ার কারণে সড়কজুড়ে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়ে চলাচল অনুপযোগি হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বন্যায় এ সড়কের পূর্ব কাতিয়া থেকে বড় ফেচিবাজারসহ প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পানিতে ডুবে যায়। এখনও সড়কের বিভিন্নস্থানে পানি রয়েছে।
জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের পরিবহন নেতা আব্দুল মুকিত বলেন. সংস্কারহীন সড়কটি বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে ওই সড়কে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এখনও সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু পরিমাণ পানি রয়েছে।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহান আহমদ বলেন, সড়কটি আমাদের ইউনিয়ন ঘেষে বেগমপুর গেছে। এ সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটি দিয়ে উপজেলাবাসী বেগমপুর হয়ে ঢাকাসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। অনেকদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়ে ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
জগন্নাথপুরের এলজিইডি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, ভবেরবাজার-নয়াবন্দর-কাঠালখাইড়- গোয়ালাবাজার সড়কের সংস্কার কাজের আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে। বন্যার পানি কমার পরই রাস্তার কাজ শুরু হবে।
এছাড়া জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়ক সংস্কারের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়া হয়েছে। বন্যাপরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের কাজ শুরু হবে।