জগন্নাথপুরে চার প্রকল্প সভাপতির মুচলেকা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় চার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়েছে। মুচলেকায় আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বলা হয়।
মুচলেকা প্রদানকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিরা হলেন, ১৫নং প্রকল্পের সভাপতি জুয়েল মিয়া, ১৬নং প্রকল্পের সভাপতি আবুল কাসেম, ১৭নং প্রকল্পের সভাপতি রেজাউল করিম, ১৮ নং প্রকল্পের সভাপতি টাকন মিয়া।
শনিবার রাতে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম বাঁধের কাজের সন্তোষজনক অগ্রগতি না থাকায় তাদের আটক করেন। পরে ১৫ মার্চের মধ্যে শতভাগ কাজের অঙ্গীকারে মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এতে ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। গত রবিবার পর্যন্ত ৪৫ প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক। ৫ টি প্রকল্পের কাজ এখনো পিছিয়ে আছে। তাদের কে তাগদা দিয়ে কাজ আদায়ের জোর প্রচেষ্টা চলছে। এছাড়াও ঝ্ুঁকিপূর্ণ ১০ প্রকল্প ঝুঁকিমুক্ত করার কাজ চলছে।
কৃষকদের নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরো ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও হাওরের শতভাগ কাজ শেষ হবে বলে মনে হয় না।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম বলেন, ‘জগন্নাথপুরে উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধের সার্বিক অগ্রগতি ভাল। তবে নলুয়ার হাওরের ১৫, ১৬, ১৭ নং প্রকল্প ও সুরাইয়া বিবিয়ানা হাওরের ৫০ নং প্রকল্প নিয়ে চিন্তিত আছি। এ চারটি প্রকল্পে ঝুঁকি রয়েছে। আমরা বিশেষ তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করতে কাজ করছি।’