জগন্নাথপুরে চার বছরে হয়নি চার শ’ ফুট সড়কের কাজ

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর বাজারের গলির মুখের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনা পর্যন্ত মাত্র চার শ’ ফুট সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও রশি টানাটানিতে  প্রতিদিন শত শত মানুষ অর্বণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দুর্ভোগে পড়েছেন পৌর শহরের নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা।
এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীরা জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ওপর দায় চাপিয়ে নিজ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। অপরদিকে সওজের দাবি পৌর কর্তৃপক্ষ পানি নিস্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জগন্নাথপুর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হচ্ছে ব্যস্ততম পৌর পয়েন্ট থেকে বাজারের গলিরমুখ পর্যন্ত। এখানে রাস্তার দৈর্ঘ্য হবে মাত্র চার শ’ ফুট। সামান্য এ সড়কে মেরামত কাজ হচ্ছে না চার বছর ধরে। রাস্তাটি ভাঙতে ভাঙতে বড়-বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টি ও রাস্তার পাশে থাকা পৌরভার ড্রেনের ময়লা  
পানি উপচে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দু’পাশে রয়েছে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের উল্লেখযোগ্য বড় বড় মার্কেট ও সুরম্য শপিংমল। সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাচ্ছে না। মিলেনিয়াম মার্কেটের মালিক মির্জা আবু তাহের বলেন,‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এ উপজেলার অনেক বড় বড় উন্নয়ন হচ্ছে। মাত্র চার শ’ ফুট সড়কের বেহাল অবস্থা সব উন্নয়ন ম্লান করে দিচ্ছে।  মার্কেটের ব্যবসায়ীরা খুব কষ্টে আছেন।’
বনফুল কনফেকশনারীর মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘দোকানের সামনে পুকুরের মতো গর্ত হয়েছে। মানুষ গাড়ি নিয়ে আসতে পারে না। ফলে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।’
নিউ ঝলক ফ্যাশনের মালিক কদ্দুছ মিয়া বলেন,‘সড়কের যে অবস্থা পায়ে হেঁটে চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই টমটমসহ ছোট ছোট যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন,‘জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওই অংশ পৌর কতৃপক্ষ জনস্বার্থে ইটের খোয়া ফেলে সংস্কার করতে পারতেন। নাগরিক দুর্ভোগের করুণ দশায় তাদের ভূমিকা দুঃখজনক।’
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফ বলেন,‘জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র হলেও সড়কটি পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের অংশ। তাই সওজের সড়কে আমরা কাজ করতে পারি না। এছাড়াও আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম  বলেন,‘পৌর কর্তৃপক্ষ জগন্নাথপুর বাজার এলাকায় ড্রেন বন্ধ করে দেয়ায় পানি উপচে সড়কে জমা হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা একাধিকবার ইটের খোয়া ফেলে দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করেছি। এই সড়কে ২২ কিলোমিটার অংশে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ হবে। এ মাসের শেষ দিকে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে ওই অংশে কাজ করলে অপচয় হবে।’