জগন্নাথপুরে জমির দামের চেয়ে রেজিস্ট্রি ফি বেশি!

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ভুমি কেনা বেচায় কমপক্ষে ৫০টি মৌজায় জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত সরকারি মুল্য নির্ধারণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ভূমি রেজিস্ট্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।
ভুমি মালিক ও উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিস সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার বাড়ী জগন্নাথপুর মৌজায় বরন্ডী রকম ভূমি প্রতি শতক সরকারী মূল্য দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বর্তমান বাজার মূল্য হচ্ছে বরন্ডী রকম ভূমি প্রতি শতক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। একই মৌজার আমন রকম ভূমি প্রতি শতক ৯৪ হাজার ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও এ মৌজার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি শতক ভূমি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ।
একই মৌজার বোরো জমি বিক্রি হচ্ছে প্রতি বিঘা ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে। অথচ সরকারি মূল্য ধার্য্য করা হয়েছে প্রতি বিঘায় ৮ লাখ টাকা।
এদিকে পৌর এলাকার হবিবপুর মৌজায় বর্তমানে আমন জমি বিক্রি হচ্ছে প্রতি বিঘা ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকায়। কিন্তু সরকারি মূল্য ধার্য্য করা হয়েছে ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৫৮০ টাকা। শাহপুর মৌজার আমন জমি প্রতি বিঘা বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখের মধ্যে অথচ সরকারি মূল্য ধার্য্য আছে ২১ লাখ ১২ হাজার ৪০ টাকা।
এদিকে ইকড়ছই মৌজার আউশ জমি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিঘা হিসাবে। এখানে সরকারি মূল্য ধার্য্য আছে ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮০ টাকা।
জগন্নাথপুর মৌজার উত্তর দিকে প্রতি শতক ভূমি বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এ মৌজার সরকারি মূল্য ধার্য্য করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা।
মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীকরপুর বাদে মৌজায় প্রতি বিঘা জমি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যে অথচ সরকারি মূল্য রয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সফিক মিয়া জানান, তিনি এক বছর আগে বাড়ী জগন্নাথপুর মৌজায় এক শতক জায়গা ৩০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন কিন্তুু অতিরিক্ত সরকারি মূল্যের কারণে এখনো রেজিষ্ট্রি করেননি। তিনি তিনশত টাকা স্ট্যাম্পে আন রেজিষ্ট্রি দলিল করে রেখেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফাজ মিয়া বলেন,‘জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৪০ টি মৌজা রয়েছে। তারমধ্যে ৫০টি মৌজায় অতিরিক্ত সরকারি দাম ধার্য্য করায় ভূমি ক্রয় বিক্রয় ও রেজিষ্ট্রেশন করতে ভূমি মালিকরা বিপাকে পড়েছেন।’
তিনি বলেন,‘ ২০১৫-২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রেজিষ্ট্রীকৃত সাফ-কবালা দলিল সমূহের গড় ভিত্তিতে ২০১৭-২০১৮ সালের জন্য সর্বনি¤œ বাজার মূল্য নির্ধারণ কমিটি এ মুল্য নির্ধারণ করে। বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় ভুমি ক্রয় বিক্রয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুমি মালিকরা। ’
জগন্নাথপুর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের মৌজাওয়ারী সর্বনি¤œ বাজার মূল্য তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়,২০১৬ সালে উপজেলার বড় মোহাম্মদপুর মৌজার বাড়ীরকম ভূমি প্রতি শতক ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও ২০১৭-১৮ সালের জন্য তা বৃদ্ধি করে প্রতি শতক ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে লোহারগাঁও মৌজায় পতিত রকম ভূমি ২০১৬ সালে ছিল ৫০০০ টাকা কিন্তুু তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এভাবে পৌরসভার ২৭টি মৌজার মধ্যে ১১টি মৌজায় ভূমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম ও আটটি ইউনিয়নের ২৩৫টি মৌজার মধ্যে কমপক্ষে ৪০টি মৌজায় ভূমির দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার শওকত হোসেন ওরফে মো. আফি বলেন, ‘ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে ৫০টি মৌজায় অতিরিক্ত সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা থাকায় এসব মৌজার ভূমি রেজিষ্ট্রিতে ক্রেতা বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করছেন। তিনি বলেন,এসব মৌজায় রেজিষ্ট্রি কম হওয়াতে সরকার রাজস্ব কম পাচ্ছেন। তিনি বলেন,‘প্রতি দুই বছর অন্তর বাজার মূল্য নির্ধারণ কমিটি তা নির্ধারণ করে থাকে। আগামীতে এবিষয়ে আমি কমিটিতে অভিযোগ তুলে ধরব।’