জগন্নাথপুরে জমির সরকারি মূল্য নির্ধারণ- বিষয়টি বাস্তবতা অনুযায়ী পর্যালোচনা আবশ্যক

জমির প্রকৃত মূল্যের চাইতে অস্বাভাবিক বেশি পরিমাণে সরকারি মূল্য নির্ধারণ করার কারণে জগন্নাথপুর উপজেলায় জমি রেজিস্ট্রি করতে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। মৌজাওয়ারী জমির মূল্য নির্ধারণ, পর্যালোচনা ও পুন: মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। প্রতি দুই বছর পর পর এই কমিটি জমির বাজার দর পর্যালোচনা করে মৌজাওয়ারী একটি গড় মূল্য নির্ধারণ করে থাকে, যে মূল্যের চাইতে রেজিস্ট্রিকালে কম দাম দেখানো যাবে না। জগন্নাথপুরের জমি ক্রেতা, এমনকি খোদ সাবরেজিস্ট্রারের অভিমত হলো, এবার জগন্নাথপুরে জমির মৌজাওয়ারী যে গড় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি বাস্তবতার চাইতে অনেক বেশি। এবং এ কারণে জমি রেজিস্ট্রির পরিমাণ কমে গিয়ে সরকারের রাজস্ব হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবাদের তথ্য অনুসারে ২০১৬ সনে যে জমির শতাংশ প্রতি মূল্য নির্ধারিত ছিল ৫ হাজার টাকা এখন সেই জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা। জগন্নাথপুর পৌরসভার অন্তর্গত ২৭ মৌজার মধ্যে ১১ মৌজায় এবং উপজেলাধীন আটটি ইউনিয়নের ২৩৫ টি মৌজার মধ্যে ৪০টি মৌজায় এভাবে জমির অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের কথা ওই সংবাদে বলা আছে। ৫ হাজার টাকার জমি দুই বছরের ব্যবধানে এক লাখ টাকায় নিয়ে যাওয়া চমকে যাওয়ার মত বিষয়ই বটে। এতে প্রমাণিত হয় যে, হয় আগে অস্বাভাবিক কম মূল্য নির্ধারিত ছিল নয় এবার অস্বাভাবিক বেশি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মূল্যের চাইতে দ্বিগুণ থেকে দশ/বিশ গুণ পর্যন্ত বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি মূল্য বেশি থাকায় সংগত কারণেই জমি রেজিস্ট্রি করতে অতিরিক্ত ফি জমা দিতে হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিমত হলো, মূল্য নির্ধারণটি অযৌক্তিক হয়েছে এবং এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
জগন্নাথপুরে যেকোন প্রকারের জমির মূল্য অন্যান্য এলাকার চাইতে অনেক বেশি। প্রবাসী অধ্যূষিত এলাকা হওয়ার কারণে অনেক আগে থেকেই জমির মূল্য আধিক্যের বিষয়টি এখানে লক্ষণীয়। প্রবাসী অধ্যূষিত অন্যান্য এলাকা যেমন-ছাতক, বিশ্বনাথ, নবীগঞ্জ ইত্যাদি অঞ্চলেও এরকম অবস্থা বিরাজমান। জগন্নাথপুরের অবস্থা পর্যালোচনা করে আমাদের কাছে অনুমিত হচ্ছে, ২০১৬ সন পর্যন্ত বাস্তবতার চাইতে জমির মূল্য অনেক কম নির্ধারিত ছিল। সাবরিজিস্ট্র অফিসের অনেক ধরনের কৌশলের কথা সকলের জানা। এখানে জমির মূল্য কম নির্ধারিত থাকার কারণে সরকারি কোষাগারে সামান্য টাকা জমা দিয়ে একটি বড় পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ ছিল। এবার সেই বিষয়টি উল্টে গেছে। আমরা মনে করি জমির মূল্য কম বা বেশি দেখানোর কোন অবকাশ নেই। বাজারে যে দাম রয়েছে সেটিই নির্ধারণ করা উচিৎ। কম মূল্য নির্ধারণের কারণে যেমন সরকারের রাজস্ব হারানো কাম্য নয় তেমনি বেশি মূল্য নির্ধারণ করে ক্রেতাকে আর্থিক লোকসানের সন্মুখিন করাও অনুচিত। তাই জগন্নাথপুরে জমির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে এখন যে অভিযোগ উঠেছে সেটি একটি শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিৎ বলেই আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে যেকোন মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেয়াটাই হবে আসল কাজ।