জগন্নাথপুরে জলমহালের সুবিধায় স্লুইসগেটের কপাট বন্ধ- জলাবদ্ধতায় বোরো চাষাবাদ বিঘ্নিত

স্টাফ রিপোর্টার
জগন্নাথপুর উপজেলার আমআমি জলমহালের ইজারাদারদেরকে মাছ ধরতে বিশেষসুবিধা দিতে আমআমি স্লুইসগেটের কপাট খুলে না দেয়ায় নলুয়ার হাওরে পানি নিস্কাশনে ধীরগতি ও জলাবদ্ধতার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। ফলে জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর নলুয়াতে বোরো চাষাবাদ বিলম্বিত হচ্ছে।  
কৃষকরা জানান, প্রতি বছর বোরো ফসল তোলার পর স্লুইসগেটের কপাট খুলে দেয়া হয়। গত বছর এপ্রিল মাসে অকাল বন্যায় ফসলহানির পর বোরো মৌসুমের আগে স্লুইসগেটের কপাটগুলো খুলে দেয়ার কথা। নভেম্বর মাসের শেষ সময় থেকে বোরো ফসলের জন্য বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের কাজ শুরু করেন কৃষকরা। গত বছর অকাল বন্যায় ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওরে এখনও প্রচুর পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না।    
কৃষকদের অভিযোগ, নলুয়ার হাওরে অবস্থিত আমআমি জলমহালে ইজারাদারদেরকে মাছ ধরার বিশেষ সুবিধা দিতে স্লুইসগেটের কপাট খুলে দেয়া হচ্ছে না। যদিও ইজারাদার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কপাট খুলে দিলে জলমহালে মাছ ধরার কোন ক্ষতি হবে না।
নলুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা ভূরাখালি গ্রামের কৃষক আলমগীর মিয়া বলেন, অকাল বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ফসল চলে যাওয়ার পর কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েন। এখনো হাওরের পানি না কমায় বোরো চাষাবাদ বিঘিœত হচ্ছে। কৃষকরা একটি কপাট খুলে দিলেও তিনটি এখনো বন্ধ রয়েছে।
নলুয়ার হাওরপাড়ের দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা  হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক  মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাস জানান, নলুয়ার হাওরে অতিরিক্ত পানির কারণে এমনিতেই চাষাবাদ বিঘিœত হচ্ছে। তারপর আমআমি জলমহালের ইজাদারদেরকে মাছ ধরার বিশেষ সুবিধা দিতে স্লুইস গেটের কপাট বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, গত বছর বোরো ফসলহানির পর কৃষি বিভাগ এবার কৃষকদের পাশে রয়েছে। সবরকম সুবিধা দিয়ে কৃষকদেরকে বোরো চাষাবাদে মনোযোগী করার চেষ্ঠা করছে। কিন্তু পানি না কমায় চাষাবাদ বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি বলেন,সময়মতো চাষাবাদ করা হলে শুধু নলুয়ার হাওরেই ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
আমআমি জলমহালের ইজারাদারদের একজন উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল জব্বার বলেন, আমআমি স্লুইস গেটের কপাটের সঙ্গে আমাদের জলমহালের কোন সম্পৃক্ততা নেই। কী কারণে কপাট খোলা হয়নি তা পাউবোর কর্মকর্তারাই জানেন। তিনি বোরো ফসল রক্ষায় পাউবোকে দ্রুত কপাট খুলে দেয়ার দাবি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা ফয়জুল্লাহ বলেন,  পাউবোর জনবল ও অর্থ সংকটের কারণে এ স্লুইসগেটের কপাট মনে হয় খোলা হয়নি। জলমহালকে সুবিধা দেয়ার বিষয়টি ঠিক না।



আরো খবর