জগন্নাথপুরে দেড় যুগ ধরে কমিটি নেই ছাত্রদলের

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
১৭ বছর আগে গঠন করা হয়েছিল জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি। সেই কমিটির কার্যক্রম তো দূরের কথা কোনো নেতাকর্মীকেও সচরাচর এখন আর দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ায় অনেকেই ছাত্র রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে উপজেলা ছাত্রদলে একাধিক পক্ষ-বিপক্ষ থাকায় সেখানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০০১ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে রাজু আহমদকে সভাপতি ও কবির আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৫ সালের দিকে ছাত্রদল সভাপতি রাজ আহমদ স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে যান যুক্তরাজ্যে। এরপর দলের সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ উপজেলা বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়ে বিএনপির রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছেন। ওই কমিটির ছাত্রদলের সবাই বর্তমানে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে সস্পৃক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে নেতাকর্মী যুক্তরাজ্য, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।
ছাত্রদলের কয়েকজন ত্যাগী নেতাকর্মীরা জানান, উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি নেই ১৭ বছর ধরে। এছাড়া পৌরসভা, কলেজ ও উপজেলার সব ’কটি ইউনিয়ন ছাত্রদলেরও কমিটি হয়নি অনেক বছর ধরে। এর মধ্যে উপজেলা ছাত্রদল অনেক বছর ধরেই দুইভাগে বিভক্ত। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেনের নিয়ন্ত্রণাধীন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জাহেদ আহমদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একাংশ কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপর দিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদের নিয়ন্ত্রণে নুরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের একাংশও মাঝেমধ্যে কর্মসূচী পালন করে। ২০০৫ সালে আলফুজ্জামান বকুলকে সভাপতি ও দুলদুল বারীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য পৌর ছাত্রদল কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সভাপতি আলফুজামান কয়েক বছর ধরে সিলেটে অবস্থান করছেন। আর ২০০৬ সালের দিকে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দুলদুল বারী যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখানে তিনি স্ত্রী-সন্তান দিয়ে স্থানীভাবে বসবাস করছেন। এর পর থেকে ওই কমিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচী ছাড়া আর কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম ছাত্রদলের ব্যানারে করতে দেখা যায় না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা জানান, ২০০৬ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। র্দীঘ ১০ বছর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করার পরও নতুন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রত্বই চলে গেছে। বর্তমান উপজেলা যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় আছি। উপজেলা ছাত্রদল নেতা নুরুল আমিন বলেন, উপজেলা, পৌরসভা, কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ছাত্রদলের কমিটি দীর্ঘদিন ধরে না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা রয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাদের প্রতি আমরা জগন্নাথপুরের নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছি।
আরেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা জাহিদ আহমদ বলেন, অনেক বছর ধরে কোন কমিটি না হওয়ায় অনেকেই ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে সরে গেছেন। জগন্নাথপুরের ছাত্রদলের রাজনীতি বাঁচাতে নতুন কমিটি গঠনের জন্য তিনিও জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হুরায়রা ছাদ মাষ্টার বলেন, উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আশা করছি তারা দ্রুত নতুন কমিটি দেবেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রায়হান উদ্দিন বলেন, জগন্নাথপুরে ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হবে।