জগন্নাথপুরে ধর্ষিতা কলেজছাত্রী রুমেনার খুনি অধরা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিচার না পেয়ে আত্মহত্যাকারী রুমেনা বেগমের খুনিরা ৫ মাসেও ধরা পড়েনি। আলোচিত এ ঘটনার খুনিরা অধরা থাকায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের কৃষক আখলুছ মিয়ার মেয়ে জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী রুমেনা বেগম  গত ২৫ জুলাই কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারই খালাতো ভাই একই ইউনিয়নের চকাছিমপুর গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে অটো রিকশা চালক ইউনুস মিয়া (২৮) কয়েকজন সহকর্মীদের নিয়ে কলেজ ছাত্রী রুমেনা বেগমকে জোরপূর্বক অটোরিকশায়  
তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে রুমেনার পরিবারের লোকজন ধর্ষক ইউনুছের পরিবারের নিকট বিচার প্রার্থী হন। কিন্তুু ইউনুছের পরিবার বিচার না করে রুমেনার বাবা কে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে ওইদিন রাতেই রুমেনা নিজ বাড়িতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রী রুমেনা বেগম এর ভাই বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় ইউনুস মিয়াকে প্রধান আসামী করে ছয় জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পর জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল সভা ও মানববন্ধন করে ধর্ষক ইউনুছের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানায়। পুলিশ ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আসামি গ্রেফতারে সহায়তাকারীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেয়া হয়।  কিন্তু ঘটনার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
রুমেনা বেগম এর বাবা আখলুছ মিয়া জানান, মেয়ে কে হারিয়েছি। এখন বিচারও পাচ্ছিনা এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী আছে।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হারুণ অর রশীদ চৌধুরী জানান, ‘আসামির কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। অচিরেই অভিযোগপত্র প্রদান করা হবে।’