জগন্নাথপুরে ধসে যাওয়া সেতুর এ্যাপ্রোচের কাজ ৭ মাসেও শুরু হয়নি

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের নলুজুর সেতুর ধসে যাওয়া এ্যাপ্রোচের সংস্কার কাজ সাত মাসেও শেষ হয়নি। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের ঘোষগাঁও নামক স্থানে সেতুর এপ্র্যোচের একাংশ ধসে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে প্রায় তিন মাস আগে। এখনও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে কোনভাবে ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট যানবাহনগুলো চলাচল করছে।
স্থানীয় উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়, এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের মে মাসে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি নলজুর নদীর ওপর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও নামক স্থানে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯.১৫ মিটার গার্ডার সেতুর উদ্বোধন করেন। কিন্তুু সংযোগ সড়কের (এ্যাপ্রোচের) জায়গার পশ্চিম অংশের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় এ্যাপ্রোচের কাজ শেষ হয়নি। বিকল্প এ্যাপ্রোচ ব্যবহার করে যান চলাচল শুরু হয়। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত উপজেলার রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি এ তিনটি ইউনিয়নের মানুষকে উপজেলা সদরে আসা যাওয়া করতে হয়। পাশাপাশি এ সড়ক দিয়ে পাশ্ববর্তী ওসমানিগঞ্জ-বালাগঞ্জের থানা সদরে উপজেলাবাসী যাতায়াতের সুবিধা বেশি।
গোষগাঁও গ্রামের রমজান আলী ছানা বলেন, গত বছরের শেষের দিকে সেতুর এ্যাপ্রোচের কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এর পর থেকে একাধিকবার একই স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে কোন কাজ না করে সংস্কারের নাম নামমাত্র কাজ করে। কাজ টেকশই না হওয়ায় এ্যাপ্রোচ ধসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী কুবাজপুর গ্রামের মাসুম আহমদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এ্যাপ্রোচের এক পাশ দিয়ে ঝুকিঁপূর্ণ অবস্থায় অটোরিকশা, রিকশাসহ ছোটধরনের যানবাহন চলাচল করছে। ভারী যানবাহন চলে না। গত সাত মাসেও এ্যাপ্রোচের কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম রিজু মিয়া বলেন, নলজুর সেতু দিয়ে তিনটি ইউনিয়নের লোকজন উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। অপরদিকে উপজেলা সদরের বাসিন্দারা কম সময়ে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের বেগমপুরে যাতায়াত করতে পারেন। দ্রুত স্থানীয়ভাবে সংস্কার কাজ করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই স্থানীভাবে এ্যাপ্রোচের কাজ শুরু হবে।