জগন্নাথপুরে ধান কাটতে মাইকিং মসজিদে, মসজিদে মোনাজাত

জগন্নাথপুর অফিস
ঘুর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব থেকে বোরো ফসল রক্ষায় জগন্নাথপুরে কৃষকদেরকে দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং করে আহবান জানানো হয়েছে। এদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজে জগন্নাথপুরের বিভিন্ন মসজিদে ফণীর প্রভাব থেকে রক্ষায় আল্লাহপাকের নিকট মোনাজাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা সদর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আজমল হোসেন জেমী।
এছাড়াও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলমের মাসুমের অনুরোধে শুক্রবার ছুটির দিনও দুর্যোগ মোকাবেলায় জগন্নাথপুর উপজেলার সকল সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ও গতকালও উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পৃথক পৃথক বার্তায় ধান কাটার জন্য হাওরাঞ্চলে মাইকিং করে আহ্বান জানানো হয়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী
প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন জানান, গত ৩০ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবের কারণে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তিন দিনের ব্যবধানে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জে ১০ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, যেখানে হাওরের বেড়িবাঁধ গুলোর ডিজাইন লেভেল (উচ্চতা) ৬.৫০ মিটার সেখানে বর্তমানে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ৪.৩৮ মিটার। যেখানে বিপদসীমা ৫.৪৭। এই (৫.৪৭) লেভেল এ নদীর পানি অতিক্রম করলে হাওরের ডুবন্ত বাঁধগুলোর ভিত্তি দুর্বল হতে শুরু করবে। এমনকি কোন কোন হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে পানিও প্রবেশ করতে পারে। সিলেট তথা ভারতের চেরাপুঞ্জি ও বরাক বেসিনের পানি সুনামগঞ্জের নদীসমূহে এখনও পুরোপুরিভাবে নেমে আসেনি। যখন নেমে আসবে তখনই হাওরে বিপদের আশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, আজ শনিবার হতে ঘুর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে নিম্নচাপের ফলে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আশংকা রয়েছে। তাই কৃষকদের অপেক্ষা না করে সব ধান দ্রুত কাটতে আমরা আহবান জানিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুৃমদার বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ হাওর নলুয়া, মইয়া পিংলার হাওরে শতভাগ ধান কাটা শেষ। কিছু উঁচু এলাকায় ধান কাটার বাকি রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত আমাদের হিসেবে ৯৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে ফসল রক্ষায় আমরা ব্যাপক প্রচারণার পাশাপাশি জমিতে গিয়ে গিয়ে দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদেরকে বলছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম বলেন, আমরা কৃষকদেরকে ধান কাটার পাশাপাশি সর্তক বার্তা জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে প্রস্তুুতি নিয়েছি। গতকাল জগন্নাথপুরের প্রতিটি মসজিদের বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।