জগন্নাথপুরে ধান কাটা শুরু

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে বোরো ফসলের মাঠে ধান কাটা শুরু হয়েছে। গত বছর বোরো ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকরা। শত কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে আবারও আবাদ শুরু করেন তারা। এবার ফসলের মাঠে ধানের মৌ মৌ গন্ধে সকল দুঃখ ভুলে কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।
সোমবার উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়া ও মইয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের ফসলডুবির নির্মম যন্ত্রণাগুলো মাঠ ভরা সোনালী ফসল দেখে হারিয়ে গেছে। আনন্দে কাটছেন নিজের চাষাবাদ করা ক্ষেত্রের কষ্টার্জিত ধান। পুরো হাওরের ফসল এখনও পাকা হয়নি। অধিকাংশ জমিনের ফসল এখন কাঁচা রয়েছে। হাওরের উচু এলাকা বলে খ্যাত নলুয়া হাওরের পূর্ব দিকের আগাড় এলাকায় সামান্য অংশে ধান কাটতে দেখা যায়। এ অংশের ধানগুলো পাকা হয়েছে।
আগাড় এলাকায় কৃষক আনিছ উল্লা জানান, গত বছর হাওরের ফসলহানির কারণে এক ছটাক ধানও পাইনি। সম্পূর্ণ ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ি। ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে আবারও আবাদ শুরু করি। এবার ফসল ভালো হওয়ায় গতবারের কষ্ট বুঝা যাচ্ছেনা।
তিনি বলেন, এ বছর ৫০ কেদার জমিতে চাষাবাদ করেছেন। আজ (গতকাল) থেকে সকাল থেকে ১২ কেদার জমিনের ধান কাটা শুরু করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
আরেক কৃষক আফরোজ আলী জানান, গত বছর ২৮ কেদারা জমিনে আবাদ করেছিলাম হাওরের বাঁধে ভেঙে সকল ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এবার ২২ কেদারা জমিনে আবাদ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কেদার জমিনের ধান পেঁকে যাওয়ায় ধান কাঁটা শুরু করেছি। আজ মাড়াই দেওয়া হবে।
নলুয়া হাওরের চেয়ে মইয়ার হাওরের একটু বেড়ি ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরের সবুজ ও হলুদাভ ধানক্ষেতে নতুন ফসলের সুগদ্ধে আনন্দে দোলছে কৃষকরা।
হাওর বাচাঁও সুনামগঞ্জ বাচাঁও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক অমিত দেব বলেন, নলুয়া ও মইয়ার হাওরের উচু এলাকায় গত দুই/তিন ধরে বোরো ফসল কাটা শুরু হয়েছে। এখনও হাওরের সর্ম্পূন ফসল পাকা হয়নি। নিচু এলাকায় শুরু মাত্র ধান বের হয়েছে। আশা করছি সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটার ধুম পড়বে।
উপজেলা কৃষক অফিস সুত্র জানায়, বড় বছরের তুলনায় এবার বোরো ফসলের চাষাবাদ কম হয়েছে। গেল বছর ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল আবাদ করা হলেও হাওরডুবিতে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এবছর উপজেলার নলুয়া, মইয়া ও পিংলার হাওরসহ উপজেলার ছোট বড় ১৫টি হাওরে ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর ফসল আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু হাওরে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছে। এখনও উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল কাচাঁ আধা পাকা রয়েছে। আমরা দুই এক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটার কর্মসুচী পালন করব।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ ৯২ শতাংশ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে।