জগন্নাথপুরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি

জগন্নাথপুর অফিস
মাহে রমজানের মাস কে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মাছ,মাংস সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমুল্য স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসন মতবিনিময় সভা করে আহ্বান জানালেও কোন কাজ হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার ঘুরে চড়া দামে মাছ মাংস ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রির তথ্য জানা যায়। ক্রেতারা জানান, আজ শুক্রবার প্রথম রোজা কে সামনে রেখে গতকাল বাজারে ছিল ক্রেতাদের ঢল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা চড়া দামে মাছ বিক্রি করছিলেন। সেই সাথে ফার্মের মুরগির দামও লাগামহীনভাবে বেড়ে যায়। এছাড়াও সবজি বাজারও ছিল চড়া।
মুরগির ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার যে লাল মুরগি প্রতিকেজি ৩৭৫-৩৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে তা এর আগের দিন (বুধবার) বিক্রি হয়েছে ৩১০-৩২০ টাকা দরে। সাদা মুরগি প্রতিকেজি গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৪৫-১৫০ টাকা দরে। এর আগের দিন বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা মূল্যে। আর পাকিস্তানি মুরগির কেজি ছিল ২৫০-৩০০ টাকা। বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা।
এছাড়া সবজি বাজারে টমেটো প্রতিকেজি বিক্রি হতো ৫৫টাকায়, বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, বেগুন প্রতিকেজি ৬০ টাকা, শশা প্রতিকেজি ৬০-৬৫ টাকা, গাঁজর প্রতিকেজি ৬০-৭০টাকা, ঝিঙ্গা প্রতিকেজি ৫৫-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতিকেজি ৬০টা মূল্যে বিক্রি হয়েছে।
বাজারে কথা হয় কলকলিয়া ইউনিয়নের ইজলা গ্রামের সফাত আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, রমজান উপলক্ষে বাজারে মানুষের চাহিদা বেশি দেখে বিক্রেতারা সবজিসহ সব জিনিষের দাম বাড়িয়েছেন। এতে করে আমাদের মতো নি¤œ ও মধ্যআয়ের মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে।
এদিকে মাছ বাজারে বিকেলে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি হলেও মাছের তীব্র সংকট রয়েছে। দেশী মাছ চোখেই পড়েনি। অস্বাভাবিক চড়াদামে ফিসারির মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করে
একজন শিক্ষক বলেন,আমাদের মতো মধ্যম আয়ের মানুষের মাছ ক্রয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রোজার জন্য মাছ কিনতে গিয়ে অস্বাভাবিক দামের কারণে না কিনেই ফিরতে হয়েছে।
জগন্নাথপুর বাজার তদারক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিয়া জানান,বাজারে রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করেছি। এছাড়াও সবাইকে অনুরোধ করছি কেউ যাতে অহেতুক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর দাম বৃদ্ধি না করেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভা করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপরও অস্বাভাবিক মূল্যে বিক্রি হলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আরো খবর