জগন্নাথপুরে বন্যায় ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কম দামে বিক্রি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে বন্যার পানি বেড়েছে। মঙ্গলবার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে গোলাভরা ধান বন্যার পানিতে তলিয়া যাওয়ার শঙ্কায় নলুয়া হাওরপারের দাসনাগাঁও গ্রামের কৃষক গৌরাঙ্গ দাস কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল ভোররাতের দিকে চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের দাসনাগাঁও গ্রামে বন্যার পানিতে বাড়তে থাকে। সকালের দিকে গ্রামের অনেকের বসতঘরে পানিতে প্রবেশ করেছে। পানিতে ঢুকেছে কৃষক গৌরাঙ্গদাসের বসতবাড়ির ধানের গোলায়। গোলায় প্রায় ৩শত’ মণ ধান রয়েছে। তাই কৃষক বন্যার পানিতে গোলাভরা ধান ভেসে যাওয়ার শঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই কৃষক পরিবার। দুপুরের দিকে স্থানীয় এক ধান ব্যাপারির নিকট নিজের খাওয়ার জন্য কিছু ধান রেখে ২৫০ মণ বোরো ধান বিক্রি করেছেন। ধানের প্রতিমণ ৯০০ টাকা দর হলেও ৮২০ টাকা করে বিক্রি করেছেন।
এ বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রনধীর কান্ত নান্টু দাস বলেন, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় লোকজন দুর্ভোগে পড়েছেন। নতুন করে শতাধিক পরিবারের বসতঘরে পানি রয়েছে হাঁটু সমান। পানিবন্দি মানুষ ঘরের গবাদিপশু এবং গোলার ধান নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দাসনাগাঁও গ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রে পানি ওঠে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লোকজন। তবে গতকাল ভুরাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকটি পরিবার।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নে। গতকালও ইউনিয়নের নতুন নতুন গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়া যাওয়ায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারছেন না। অনেকেই পানিবন্দি পরিবার পানির ওপর চাঙারি বেঁধে অবস্থান নিয়েছেন।
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ৯০ভাগ মানুষ পানিবন্দি। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারছেন না। আমরা ৩৫টি পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা বলেন, পানি বাড়ছেই। গতকালও প্রাচীনতম রানীগঞ্জ বাজারের একাংশে পানি ওঠেছে। চার গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের দুইটি করে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমরা বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছি।