জগন্নাথপুরে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি

জগন্নাথপুর অফিস
করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে লকডাউন সীমিত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে দল বেঁধে হাটবাজারে হাঁটছে লোকজন।

বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র জগন্নাথপুর পৌর শহরের সদরের জগন্নাথপুর বাজারে সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্যদিনের তুলনায় জনসমাগম বেশি ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবজি বাজার, মাছ বাজারসহ নিত্য পণ্যের দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ঢল। এছাড়া মধ্য বাজারের বড় গলিতে দল বেঁধে লোকজনকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে করোনা সংক্রমণের। এরমধ্যে জগন্নাথপুরে ৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, গত ২৩ মার্চ স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে নিত্যপণ্য ও ঔষধের দোকান ছাড়া অন্য সকাল দোকানপাট সন্ধ্যা থেকে বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। ২৫ মার্চ থেকে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে অঘোষিত লকডাউনের কবলে পড়েন উপজেলাবাসী। জনসাধারণকে ঘরে ফেরাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনা সদস্যরা মাঠে নামেন। প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে প্রথম দিকে মানুষ কিছুই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ধৈয্যের যেন বাঁধ ভাঙতে থাকে। সাম্প্রতিককালে জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫ শতাধিক মানুষ নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর সহ বিভিন্ন জেলা থেকে জগন্নাথপুরে আসেন তার মধ্যে শুধু নারায়নগঞ্জ থেকে আসেন দুই শতাধিক লোক। এরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে অবাধে ঘোরাফেরা করছে। জগন্নাথপুরে প্রথম করোনা রোগী হিসেবে ২৩ এপ্রিল জগন্নাথপুরের উত্তর নাদামপুর গ্রামে ১৮ বছরের এক তরুণ শনাক্ত হন। এখন পর্যন্ত জগন্নাথপুরে মোট ৬ জন করোনায় শনাক্ত হন। এর একজন স্বাস্থ্য কর্মী এছাড়াও অপর জনকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্রগ্রাম ফেরত। আক্রান্তের মধ্যে সবাই তরুণ।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব জানান, জগন্নাথপুর উপজেলা নানা কারণে এখন করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। একদিকে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লোকজন অপরদিকে লকডাউন সীমিত হওয়াতে অবাধে হাট বাজারে লোক সমাগম ঘটছে। বেশিভাগ মানুষ সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ঝুঁকি বেড়েছে।

জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আগত আড়াই শতাধিক লোকসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লোকজন জগন্নাথপুর উপজেলা কে করোনা ঝুঁকিতে ফেলেছে। আমরা দিনরাত তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কাজ করছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মধু সুদন ধর বলেন, গতকাল পর্যন্ত আমরা করোনা সন্দেহে ১৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে জগন্নাথপুরে ৬ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এবং মানুষকে ঘরমুখী করতে আমরা মাঠে নিরসলভাবে কাজ করছি।