জগন্নাথপুরে বিদ্যালয়ের সামনের কালভার্টে গর্ত-ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা, নেই সংস্কারের উদ্যোগ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর পৌর শহরের রথবাড়ি এলাকায় জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি কালভার্ট রয়েছে। ২০০৪ সালের বন্যায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে কালভার্টের মাঝপথে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। অসাবধানতাবশত: শিক্ষার্থী ও পথচারীরা ওই গর্তে পা ফেলে আহত হচ্ছেন। গুরুতর আহত জগন্নাথপুর গ্রামের সুবর্ণা রানী দাস নামের এক নারী মঙ্গলবার কালভার্টের গর্তে পা ভেঙ্গে এখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতকিছুর পরও কালভার্টটি সংস্কারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জগন্নাথপুর পৌরসভার কোন উদ্যাগ না থাকায় নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলজিইডি সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ডাক বাংলো সড়কের জগন্নাথবাড়ী খালের ওপর কালভার্টটি নির্মিত হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি এটি সংস্কার করে। একাধিকবার জগন্নাথপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও এলজিইডি জোড়াতালি দিয়ে কালভার্টটি চালু রেখেছেন।
বুধবার বিদ্যালয় ছুটির পর কালভার্ট নিয়ে কথা হয় বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী পুষ্পিতা রানী দাসের সঙ্গে। পুষ্পিতা জানায়, পুলে (কালভার্টে) উঠলে এখন আমাদের ডর ডর (ভয়) লাগে। তার কথায় সুর মিলিয়ে শিক্ষার্থী বৃষ্টি, রূপা, রাজু, সজিব, মনোয়ার, আলামীন কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানায়।
জগন্নাথপুর গ্রামের গ্রবীণ বাসিন্দা সমাজকর্মী নুরুল হক বলেন, ‘ডাক বাংলা সড়কে এই কালভার্টের পাশে জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। তিনটি বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী এ পথে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এছাড়া প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচল করছে এই রাস্তায়।’
জগন্নাথপুর পৌর শহরের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘ছোট একটি গর্ত ঠিক করতে পৌর কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা নাগরিক হিসেবে আমরা হতাশ।’
জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, বিদ্যালয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। স্কুলে যাওয়া আসার পথে তাদেরকে নিয়ে আতংকে থাকি। স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি করে বাড়িতে যেতে গিয়ে কালভার্টে পড়ে আহত হন। গত এক সপ্তাহ ধরে কালভার্টে গর্তের সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুধাংশু শেখর রায় বাচ্চু জানান, কালভার্টটি সংস্কারে এলজিইডি ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা দুঃখজনক। এলজিইডি কোন দায়িত্ব না নিয়ে পৌরসভার ওপর দায় চাপাচ্ছে। অপরদিকে পৌরসভাও কোন উদ্যাগ নিচ্ছে না। যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত কালভার্টটি ভেঙ্গে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান।
জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রকৌশলী সতীশ গোস্বামী বলেন, ‘জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কালভার্টসহ ডাক বাংলো সড়কের সংস্কার কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শুরু করবে। আপাতত আমরা কালভার্টের গর্ত ভরাটের কাজ করব।’
জগন্নাথপুরের উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই কালভার্টটি এখন পৌর কর্তৃপক্ষের সংস্কার করার কথা। তাই আমরা কোন উদ্যোগ নেইনি। তারা না করলে আমাদেরকে জানালে আমরা সংস্কার করব।’