জগন্নাথপুরে বড় শো-ডাউন করবে আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের রানীগঞ্জে দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সেতু আগামী সাত নভেম্বর উদ্বোধন হবে। একই সময়ে দেশের ‘শতসেতু’ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে জেলার জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে বড় আকারের শো-ডাউন করবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এই আয়োজন সফল করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।
২৫ লাখ সুনামগঞ্জবাসীর দক্ষিণা দুয়ার খুলবে প্রধানমন্ত্রীর রানীগঞ্জ সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। জেলার দক্ষিণের উপজেলা জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগের বৃহৎ সেতু নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেই চলবে গণপরিবহন।
সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের দাবি ছিল রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণের। ২০১৬ সালের শুরুতেই কুশিয়ারা সেতু নির্মাণের কাগজে-ফাইলে প্রক্রিয়া শুরু হয়। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে কার্যাদেশ পায় রাজধানীর জন-জেবি নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণ কাজ যৌথভাবে উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএম মান্নান এমপি। সেই থেকে স্বপ্নদেখা শুরু ২৫ লাখ সুনামগঞ্জবাসীর।
ইতিপূর্বে শান্তিগঞ্জের ডাবর থেকে জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দপুর পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৪৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। রানীগঞ্জের ফেরী পার হয়ে এই পথে তিন বছর হয় যান চলাচলও শুরু হয়েছে। সেতু না থাকায় এই সড়কে গণ-পরিবহন বা পণ্য পরিবহন হচ্ছে সীমিত আকারে। স্থানীয়রা বললেন, সেতু চালু হবার পর রাজধানীর সঙ্গে সুনামগঞ্জের দুুরুত্ব কমবে ৫২ কিলোমিটার। একইসঙ্গে ঢাকাসহ রাজধানীতে যাতায়াতে ভিড় ঠেলতে হবে না সুনামগঞ্জবাসীকে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং জানালেন, সাত নভেম্বর সকাল ১০টায় এই সেতুসহ দেশের একশ সেতু উদ্বোধন হবে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় সেতু রানীগঞ্জের কুশিয়ারা সেতু। এই সেতু ছাড়াও জেলার আরও ১৭ টি সেতু এইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের রানীগঞ্জে সরাসরি যুক্ত হবেন। রানীগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে এই উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ওখানে থেকে বড় পর্দায় উদ্বোধনী পর্ব স্থানীয়দের দেখানো হবে।
জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, রানীগঞ্জ সেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বর উদ্বোধন করবেন। এই উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন হবে জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে। রানীগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে মঞ্চসহ আনুসাঙ্গিক সবকিছু করার জন্য ঢাকার একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কাজ করছে। অনুষ্ঠান মাঠে ১০ হাজার চেয়ার বসানো হবে। মঞ্চে ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক বসবেন। মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের বিশিষ্টজন, গণমাধ্যম কর্মী সকলের আলাদা আলাদা বসার গ্যালারি থাকবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান বললেন, সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল বলেই এতো বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে। এই সেতু ভাটির অর্থনীতির চিত্র বদলে দেবে। লাখো কৃষকের উৎপাদিত পণ্য এখন রাজধানীতে সহজেই পৌঁছে যাবে। সেতু উদ্বোধনের দিন উৎসব করবেন ভাটির মানুষ। আমরা চেষ্টা করবো সর্বোচ্চ গণ জমায়েতের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যুক্ত করতে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী একইদিনে বরিশাল ও খাগড়াছড়িতেও সেতুর উদ্বোধনী সমাবেশে যুক্ত হবেন।