জগন্নাথপুরে যুবককে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দিঘলবাগ গ্রামের নিখোঁজ যুবক শাহজাহান আলীকে অপহরন করে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে। রবিবার সুনামগঞ্জ আদালতে হত্যাকান্ডে জড়িত তিন ঘাতক তাদের স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন দিঘলবাগ (কালাইজোড়া) গ্রামের মৃত ইউনুছ উল্লার ছেলে আল আমিন লিটন, একই গ্রামের মৃত আবরুজ মিয়া উল্লার ছেলে ফুরুক মিয়া ও উত্তর কালনিচর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে সুহিন মিয়া। জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত. মদরিছ আলীর ছেলে শাহজাহান আলী গত ২২ মার্চ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার বড় ভাই আব্দুল সামাদ জগন্নাথপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে নিখোঁজ শাহজাহান আলীকে সংঙ্গবদ্ধ চক্র অপহরণ করেছে। তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় পরবর্তীতে তার ভাই আব্দুল সামাদ বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত আসামী আল অমিন লিটন ও সুহিন মিয়াকে গ্রেফতার করে। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা শাহজাহান আলীকে অপহরন করে তাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। পরে পুলিশ ফুরুককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামীকে সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক শাহজাহান আলী অপহরন ও হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
জগন্নাথপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় গনমাধ্যমে পাঠানো ই-মেইল বার্তা থেকে জানা যায়. শাহজাহান আলীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে তার আপন ভগ্নিপতি একই গ্রামের মৃত আবরুজ মিয়ার ছেলে ফরুক মিয়ার বিরোধ এবং একই এলাকার আল আমিন লিটনের সঙ্গেও জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে লিটন ও ফুরুক মিয়ার পরিকল্পনায় অনুযায়ী শাহজাহানকে খুন করার সিদ্ধান্ত হয়। হত্যাকান্ড বাস্তবায়নে লিটন চার লাখ টাকা অর্থায়ন করে। তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গত ২২ মার্চ রাত ৯ ঘটিকার দিকে হত্যাকান্ডে জড়িত এক সহযোগী (তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তার নাম প্রকাশ করেনি) শাহজাহানকে স্থানীয় কালাইনজোড়া বাজারে ডেকে নিয়ে আসে। পরে আসামী লিটন, সুহিন, ফুরুখসহ ৬/৭ জন ব্যক্তি ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে শাহজাহানকে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে লিটনের নানার বাড়ি রৌয়াইল গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তারা চায়ের সাথে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে শাহজাহানকে অচেতন করে। এর পর রশি দ্বারা গলায় শ্বাস রোধ করে হত্যা করে তার লাশ পাশ্ববর্তী কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ শাহজাহানের ভগ্নিপতি ফরুককে আটক করে রবিবার সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়েছে।
অভিযানে অংশ নেয়া জগন্নাথপুর থানার থানার এসআই সাইফুল আলম জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই ঘাতকরা শাহজাহান আলীকে প্রথমে অপহরন করে পরে তাকে হত্যা করেছে। আদালতে গ্রেফতারকৃত তিন আসামী হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে নিহত যুবকের লাশ এখনও পাওয়া যায়নি।