জগন্নাথপুরে শেষ মূর্হুতে জমজমাট কোরবানির পশুরহাট, দাম চড়া

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে শেষ মূর্হুতে কোরবানির পশুর হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। শুক্রবার জগন্নাথপুরের প্রাচীনতম পশুরহাট রসুলগঞ্জ বাজারের শেষ হাট ছিল। যে কারণে বাজারজুড়েই গরু ছাগলের হাট বসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহি রসুলগঞ্জ বাজারে অন্যদিনের তুলনায় গতকাল হাটে প্রচুর গরু ছাগল নিয়ে ব্যবসায়ী হাটে এসেছে। ক্রেতাদের উপচেপড়া ঢল নামলেও পশুরহাটে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে গরু, ছাগল। অনেকেই তাদের সার্মথন অনুয়ায়ী গরু কিংবা ছাগল কিনতে না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আবারও কেউ কেউ ঈদের শেষ হাট অর্থাৎ রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অন্য বছরের কোরবানির পশুর হাটের চেয়ে এবার একটু দেরিতে বেচাবিক্রি জমে উঠেছে। তবে এবারের হাটে গরু ছাগলের নাম অতিরিক্ত। যা এর আগে এতো চড়া দাম গরু ছাগলের ছিল না। এবার একদম ছোট আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকায়। এধরনের আকারের ছোট গরু সাধারণত কেউ কোরবানি নিতে চান না। কিন্তু নিরূপায় হয়ে কেউ কেউ কিনছেন। তবে এ জাতের গরু ক্রয়ে প্রচন্ড অনিহায় ক্রেতাদের। হাটে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা খুবই বেশি। এ আকারের গরু ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একটু বড় আকারের গরু এক লাখ থেকে এক সর্বচ্চো দু থেকে তিন লাখ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
কোরবানির হাটে আসা রাজু আহমদ এক ক্রেতা বলেন, হাটে গরু বেশি থাকলেও চাহিদা অনুয়ায়ী পাচ্ছিনা। এরমধ্যে অতিরিক্ত দাম। এখনও কিনা হয়নি। হাটে ঘুরছি।
আরেক ক্রেতা শাহ আলম বলেন, ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা মুল্যের সাইজের একটি গরুর মুল্যে। চাহিদা অনুয়ারী গরুই নেই। অনেকক্ষণ ঘুরে দেখেছি। শেষ পর্যন্ত ফিরে যাচ্ছি ঈদের শেষ হাট রবিবারে কিনবো।
হাটে আসা গরু ব্যবসায়ী গয়াছ মিয়া বলেন, হাটে দেশি গরুই বেশি। ক্রেতারা তাদের পছন্দ অনুয়ায়ী গরু কিনছেন। ন্যায়্য মূল্যের গরু বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রসুলগঞ্জ বাজার তরাদক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন জসিম বলেন, প্রাচীনতম এই রসুলগঞ্জ বাজারে কোরবানির হাটে জগন্নাথপুর ছাড়াও পাশ্ববর্তী ছাতক, বিশ্বনাথ উপজেলাসহ সিলেটর আশপাশ অনেক অঞ্চল থেকে ক্রেতা বিক্রেতার গরু-ছাগল বেচাবিক্রির জন্য হাটে আসেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় গরু ও ছাগলের দাম বেশি। তবে ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুয়ারী গরু ছাগল কিনছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন জগন্নাথপুরের স্থায়ী দুইটি পশুর হাট রয়েছে। এরমধ্যে রসুলগঞ্জ বাজার একটি। অপর হাটটি রানীগঞ্জ বাজার। অস্থায়ী হাট রয়েছে কয়েকটি।
কোরবানির ঈদের শেষ মূর্হুতে পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে।