জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৯, আটক ৩

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে হামলা সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬জনকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করে সোমবার সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব বুধরাইল গ্রামের মসজিদের গেইট নির্মাণ নিয়ে ওই গ্রামের হারুন মিয়া ও আকবুল মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রবিবার বিকেলে আকবুল মিয়ার পক্ষের লোকজন হারুন মিয়ার পক্ষের জাকির হোসেনের একটি গরু তাদের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিস্পত্তি হলেও উত্তেজনা ছিল। রাত সাড়ে আটটার দিকে তারাবী নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যান জাকির হোসেন, ফয়সল আহমদ ও লেবু মিয়া। এ সময় তাদের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন অস্ত্র সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে আকবুল মিয়ার পক্ষের লোকজন দুই রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সংঘর্ষে আহতদেরকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে গুলিবিদ্ধ মাসুদ খান, বাবুল মিয়া, ফয়সল আহমদ, লেবু মিয়া, আল-আমিন, তুরন মিয়াকে সিলেট রেফার করা হয় এবং অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এসময় পুলিশ গুলিবিদ্ধ মাসুদ খান কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে আটক করে। এছাড়া পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে আকবুল মিয়া ও আনহার মিয়াকে আটক করেছে।
হারুন মিয়ার পক্ষের জুবেদ খান বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের পক্ষের একজনের একটি গরু জোরপূর্বক বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। এ ঘটনার পর তারাবী নামাজের সময় মসজিদে থাকা আমাদের লোকজনের ওপর অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা গুলিবর্ষণ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে ৪ জনকে।
অপর দিকে আকবুল মিয়ার লোকজন জানিয়েছেন, গ্রামের মসজিদের গেইট নির্মাণ নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে। যার জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার এসআই লুৎফুর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ৩ জনকে আটক করে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এখনো থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগে দায়ের করেনি।’