জগন্নাথপুরে সড়কে পশুরহাট দিনভর তীব্র যানজট

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রধান সড়কে কোরবানির পশুর হাট বসায় দিনভর শহরে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ফলে জগন্নাথপুর পৌরশহরে আসা লোকজনদেরকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
রবিবার দুপুর সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জগন্নাথপুর পৌরসভার অস্থায়ী পশুর হাট প্ৗের এলাকার হেলিপ্যাড এলাকা থেকে পৌরসভার সামনের সড়ক পর্যন্ত ও আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনা থেকে রানীগঞ্জ সড়কের হবিবনগর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে স্থাপন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু ছাগল নিয়ে বিক্রেতারা আসেন বাজারে। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
হাটে আসা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ আলম বলেন, ‘সকাল থেকে হাটে ক্রেতাদের ঢল নামে। বিক্রেতারাও প্রচুর গরু ছাগল নিয়ে হাটে এসেছেন। উপজেলা সদর বাজারের শেষ হাট হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
আরেক ক্রেতা উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের মজিদ মিয়া জানান, বাজারে বিদেশী গরু নেই বললেই চলে। দেশী গরু বেশি হওয়ায় দামও একটু চড়া। দীর্ঘক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে একটা দেশী গরু ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন বলে জানান তিনি।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ী বকুল গোপ বলেন, ‘সকাল থেকেই দোকানঘরের সামনে গরু নিয়ে বিক্রেতারা বসে আছেন। বার বার বলার পরও দোকানের সামনা থেকে গরু না সরানোর কারণে আমার ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।
পৌরসভার সামনের সড়কের আরেক ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন,‘সড়কে পশুর হাট না বসানোর কথা থাকলও সড়কে পশুর হাট বসানোর কারণে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে । তিনি বলেন, দোকানের সামনে গরু নিয়ে বসায় অনেক সময় ঝগড়া করতে হয়েছে গরু ব্যবসায়ীদের সাথে।
কোরবানি হাটের ইজারাদার আনিছ আলী বলেন, আমরা ইজারা নিয়ে বৈধভাব পশুর হাট এনেছি। ঈদের শেষ হাট হওয়ায় বাজার ছিল জমজমাট। ক্রেতা বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড় থাকায় জায়গার সংকুলান না হওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী সড়কে গরু নিয়ে বসেছেন। এজন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি।
জগন্নাথপুর পৌর শহরের ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, সড়কে পশুর হাট থাকায় শহরের প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে প্রাণপণ চেষ্টা করেছি।
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আবদুল মনাফ বলেন,‘সড়কে পশুর হাট যাতে না বসে তা আমরা ইজারাদারকে বলেছিলাম। তারপরও হাট বসায় নাগরিকরা দুর্ভোর্গে পড়েন।