জগন্নাথপুরে সড়ক রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন এলাকাবাসী

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর পৌর সভার ইকড়ছই ঈদগাহ পয়েন্ট থেকে চিলাউড়া বাজার সড়কটি রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন এলাকাবাসী। সড়ক রক্ষায় এলজিডির অবহেলায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জগন্নাথপুর পৌর সভার তিনটি ওয়ার্ড ও চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নবাসীর সড়ক যোগাযোগের একমাত্র সড়ক হচ্ছে এ সড়ক। ৫ কিলোমিটার এ সড়কের মাত্র ৪০০ মিটার অংশ বৈঠাখালী সেতুর মুখ থেকে যাত্রাপাশা পর্যন্ত মইয়ার হাওরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
সড়কের মইয়ার হাওরের পাশের ৪০০ মিটার অংশ সাম্প্রতিক বন্যায় ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভাঙতে শুরু করে। এলাকাবাসী সড়ক রক্ষায় বিষয়টি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে অবহিত করে তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ১৮ জুন উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সড়কের একটি অংশে ৫০ হাজার টাকার বস্তা ফেলে নামমাত্র আংশিক কাজ করা হয়। গত দুই তিন ধরে সড়কের ভাঙ্গনের গতি তীব্র আকার ধারণ করলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কোন ভূমিকা না রাখায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত যাত্রাপাশা ও শেরপুর গ্রামের বিভিন্ন বয়সী ৪০ জন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ এনে বস্তায় মাটি ফেলে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা চালান।
যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী বকুল গোপ জানান, সড়কটি জগন্নাথপুর পৌর সভার ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগের একমাত্র পথ। সড়কের যাত্রাপাশা ও শেরপুর অংশে ভাঙ্গন যেভাবে শুরু হয়েছে সড়কটি বিলীন হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে দেখে আমরা দুই গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে মাটি ভর্তি বস্তা ফেলার পাশাপাশি ঢেউয়ের কবল থেকে সড়ক রক্ষায় কচুরিপানার স্তুুপ আটকে রেখেছি।
শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান জানান, সড়কটি রক্ষায় এলজিইডি নীরব ভূমিকা পালন করছে। মাত্র ৪০০ মিটার গার্ড ওয়াল অথবা ব্লকের কাজের জন্য বার বার ধর্না দিয়ে কোন সুফল মিলছে না।
তিনি বলেন, সামান্য কাজের জন্য সড়কটি ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ ফুট প্রস্ত সড়ক ভেঙে বিভিন্ন জায়গায় ৫ ফুট হয়েছে। আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করেছি। যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা স্থহানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দ্বিপক গোপ জানান, সড়কটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সড়ক রক্ষায় এলজিইডির ভূমিকায় আমরা হতাশ।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি গোলাম সারোয়ার জানান, দুই বছর আগে সড়কে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি সড়কের যাত্রাপাশা অংশে কিছু ভাঙ্গন দেখা দিলে আমরা উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে তাৎক্ষণিক কিছু সংস্কার কাজ করেছি। সড়কের সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।