জগন্নাথপুরে হাওরের ঢেউয়ে ভেঙে যাচ্ছে সড়ক

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে মইয়ার হাওরের ঢেউয়ে ভেঙে যাচ্ছে ইকড়ছই-চিলাউড়া সড়কটি। সড়কটি নিয়ে স্থানীয়রা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোড়ালো দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরির্দশন করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দ্বিপক কান্তি গোপসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইকড়ছই-চিলাউড়া সড়কের পৌর এলাকার বৈঠাকালি সেতুর মুখ হতে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার সড়কের প্রতিরক্ষা ব্লক ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে ব্লক ভেঙে সড়কের বিভিন্নস্থান ধসে ১০/১২টি ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে সড়ক দিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকাবাসী।
মইয়ার হাওর ঘেষা উপজেলা সদরের সঙ্গে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডবাসীর একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা এটি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলা সদর থেকে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। বর্তমানে সড়কে ৯৭ লাখ টাকার টাকার সংস্কার কাজ চলছে। তারমধ্যে দেড় কিলোমিটার অংশের প্রতিরক্ষা ব্লক ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
পৌরএলাকার যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা বকুল গোপ জানান, ঢেউয়ের কবলে পড়ে সড়কের প্রতিরক্ষা ব্লকগুলো ভেঙে মুল সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের যাতায়াত বিঘিœত হবে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দ্বিপক গোপ বলেন, বর্ষার পানিতে ঢেউয়ের কবলে পড়ে সড়কের পাশে স্থাপিত ব্লক ভেঙে সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, এ সড়ক দিয়ে আমাদের ইউনিয়নবাসীর পাশাপাশি জগন্নাপুরপুরের দিরাই উপজেলার একাংশের লোকজন যাতায়াত করে। হেমন্ত মৌসুমে জগন্নাথপুর-দিরাই উপজেলাবাসী এ সড়ক দিয়ে কম সময়ে চলাচল করতে পারেন। দ্রুত সংস্কার করে সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষকে কাজ করার জন্য আহবান জানিয়েছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, ভাঙনরোধে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বলেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার জানান, সড়কের সংস্কার কাজে প্রতিরক্ষা কাজ ধরা থাকায় সাময়িকভাবে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কিছু কাজ করব। এছাড়াও প্রতিরক্ষা কাজের জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে কার্যক্রম শুরু হবে।