জগন্নাথপুরে হাওরে আনন্দ উৎসব

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে গত বছর হাওরের ফসলডুবির দুঃখ কষ্টের চোখের জলে বরণ করেছিলেন পহেলা বৈশাখ। এবার সেই হাওরে পাকা ধানের ম ম গন্ধে উদ্ভাসিত কৃষকরা আনন্দ আর হাসি-খুশিতে হাওরের পর হাওরে ভাসছে কৃষকদের ধান কাটার উৎসব। গত শনিবার নববর্ষের প্রথম দিন বোরো ধান কাটার উৎসব কর্মসুচী পালন করা হয়েছে।
স্থানীয় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার দলুয়ার হাওরে পৌরশহরের হবিবপুর এলাকা অংশে কৃষক হাজী আলী আকবরের বোরো ধানক্ষেত্রের পাকা ফসল কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান¡ আতাউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন চন্দ, হাওর বাচাঁও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক অমিত দেব, সদস্য সাংবাদিক আলী আহমদ, গোবিন্দ দেব, কৃষক হাজী আলী আকবর প্রমুখ।
রোববার জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া ও মইয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরজুড়ে সোনালী ধানের শীষ বাতাসের তালে তালে দুলছে। গত দুই বছরের ফসলহারা কৃষকরা এখন পাকা ধানক্ষেতে ফসল কাটার কাজে ব্যস্ত।
নলুয়া হাওরের ভুরাখালি গ্রামের কৃষক মাসুম মিয়া বলেন, গত বছর হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল পাকার পূর্বেই পানিতে তলিয়ে যায়। এর আগের বছর ব্যাপক শিলাবৃষ্টির তা-বে বিনষ্ট হয়ে যায় ফসল। টানা দুই বছর পর এবার পাকা ধান কাটতে পেরে
খুবই খুশি লাগছে। ভালোয় ভালোয় গোলায় ফসল তুলতে পারতেই শোকরিয়া আল্লাহপাকের। ১২ কেদার জমিতে এ বছর ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
একই হাওরের আরেক কৃষক দাসনাগাঁও গ্রামের আরাধন দাস বলেন, এবার মাঠে পাকা ধান দেখে গত দুই বছরের ফসলহানির কষ্ট ভুলতে পারছি। আজ (গতকাল ) ৪ জন শ্রমিক নিয়ে ৬ কেদার জমিতে ধান কাটা শুরু করেছি। ধান কাটার শ্রমিক সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান।
নলুয়া হাওরের কৃষক নেতা সাইদুর রহমান বলেন, এবার হাওর থেকে পানি দেরিতে নামায় আমরা আবাদ করেছি বিলম্বে। ফলে ধান পাকতে দেরি হয়। এখনও পুরোপুরি ধান কাটার ধুম পড়েনি নলুয়া হাওরে। শ্রমিকও সংকট রয়েছে। তিন চার দিনের মধ্যেই ধানকাটার ধুম পড়বে।
এদিকে উপজেলার দ্বিতীয় বৃহৎ মইয়ার হাওরে সরেজমিনে দেখা গেছে এ হাওরের বোরো ফসল কাটার ধুম পড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দশ বারো দিনের মধ্যেই মইয়ার হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাওরে এবার পাকা ফসল দেখে কৃষকরা খুশি। তাদের আনন্দে আমরা আনন্দিত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ২০/২৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা ফসল গোলায় তুলতে পারবেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, এবার বোরো ফসল বাস্পার ফলন হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা উৎসব কর্মসুচী পালন করেছি। তিনি বলেন, ফসল হারানো কৃষকদের মধ্যে এবার আনন্দ উৎসবে ধান কাটছেন। আমরা কৃষকদের তাগিদ দিচ্ছি দ্রুত পাকা ধান গোলায় তোলতে।