- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে ১৩টি বাঁধের কাজ শুরু হয়নি- শংকায় কৃষকরা

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে ৮১টি বাঁধের মধ্যে এখনও ১৩টি বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। এসব বাঁধের কাজ এক দুই দিনের মধ্যে শুরু হবে, এমন তথ্য দিয়েছেন জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ।  
মঙ্গলবার জেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওরের কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ কাজ পরির্দশন শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাব তিনি এমন তথ্য জানিেেছন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি বাঁধের পিআইসি সদস্যদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যথাসময়ে কাজ শেষ করার জন্য। সে লক্ষ্যে পিআইসিরা কাজ করছেন।  
সংশ্লিষ্টরা সঠিক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বললেও খোদ পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সদস্য ও কৃষকরা জানিয়েছেন, কোনভাবেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধের কাজ শেষ করা যাবে না। কারণ এখনও কোন কোন বাঁধে একদলা মাটিও পড়েনি।  
এদিকে নলুয়ার হাওর পরির্দশনকালে দেখা যায়, হাওরজুড়ে নিজ নিজ জমিতে হালিবাছাঁ কাজে (বোরো ফসলের চারা পরির্চায়া) কৃষকরা ব্যস্ত। আলাপ করে জানা যায়, এবার দেরিতে হাওর থেকে পানি নামার কারণে বোরো আবাদ শুরু হয়েছে বিলম্বে। চারা রোপন শেষ। এখন হালিবাছাঁর কাজ শুরু হয়েছে। এর পর ফসলে সার দেওয়া হবে। এক দেড় মাসের মধ্যে ফসল পাকা শুরু হবে। কিন্তু এখনও হাওরের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হাওয়া শংকায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষকরা।  
নলুয়ার হাওরে  হালিবাঁছা কাজে নিয়োজিত কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছর ২০ কেদারা জমিনে আবাদ করেছিলাম। হাওরের ধান পাকার আগেই বেড়িবাঁধ ভেঙে সব ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেলো। নানা কষ্টের মধ্যে আবারও চাষাবাদ শুরু করেছি। বেড়িবাঁধের কাজের কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি আমরা।’
নলুয়া হাওরের বাঁধ এলাকার বাসিন্দা ভুরাখালি গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে ফসল হারিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে আছি। তারপরও আগামী ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন আর বুকভরা আশা নিয়ে এবারও ২৪ কেদারা জমিতে চাষাবাদ করেছি।’ তিনি বলেন, ভুরাখালী খেয়াঘাট, রাখালগাছ, হামহামি, ডুমাখালিসহ বেশ কয়েকটি বাঁধে এখনও মাটিই পড়েনি। তাই খুবই শংকায় আছি।  
নলুয়ার হাওরের কৃষক নেতা হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাচাঁও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক অমিত দেব বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের বাঁধের কাজ শেষ  করার কথা থাকলেও এখনও বেশ কয়েকটি বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি। এমতাবস্থায়  কিভাবে সময় মতো কাজ শেষ হবে তা বুঝতে পারছি না।’
নলুয়া হাওরের ভুরাখালি খেয়াঘাটস্থ বেড়িবাঁধের পিআইসি কমিটির সভাপতি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হীরা মিয়া বলেন, ‘বেড়িবাঁধের কাজের ওর্য়াক অর্ডার (কার্যাদেশ) দেরিতে পাওয়ায় নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছে। আজকে (মঙ্গলবার) কাজ শুরু করেছি।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
নলুয়া হাওর বেষ্টিত উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, ‘আমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যথাসময়ে বেড়িবাঁধের কাজ শেষ করার জন্য। আমাদের ইউনিয়নের অধিকাংশ বাঁধের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। যে দুইতিনটি বাঁধের কাজ শুরু হয়নি সেইসব বাঁধের কাজ আজ (বুধবার) শুরু হবে।   
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জগন্নাথপুরের ইউএনও অফিস সুত্র জানায়, এবছর ৮১ টি পিআইসি’র জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দ আরো বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন অন্য বছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ বেশি পাওয়া গেছে।