জগন্নাথপুরে ১৩ অস্ত্রধারী গ্রেফতার

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে যুবকের ওপর হামলা এবং দাঙ্গার প্রস্তুুতি নেয়ার অভিযোগে পুলিশ অস্ত্রসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই দুইটি ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে।
অস্ত্র ও হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ইসহাকপুর এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে রুহুল আমিন টিপু (২৯), আব্দুল গণির ছেলে আব্দুল কছির (৩৯), হবিব উল্লার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (৫০), মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪২), মৃত আব্দুর নুরের ছেলে জুয়েল আহমদ (২৯), জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত হারিছ উল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম খেজর (৩৬), সামছুল হকের ছেলে এনাম আহমদ (২৬), দিনাজপ্রু জেলার খানসেবা থানার হুলিহারা গ্রামের আকবল আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪২), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার বড়ইকান্দির তাহির আলীর ছেলে সুমন আহমদ (৩৮), জৈন্তার লামা মহাইল গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে রইছ উদ্দিন (৩০), আব্দুস সত্তারের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩২), সিরাজুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২১) ও আব্দুল খালেকের ছেলে আল আমিন (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ইসহাকপুরের আব্দুল জলাল এর পক্ষের সুন্দর আলীর ছেলে সরোয়ার হোসেন (২১) ও একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের পক্ষের লাল মিয়ার ছেলে রানা মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধ চলছিল। প্রায় আড়াই বছর পূর্বে রানা মিয়ার ওপর হামলা করে সরোয়ার। এই ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে আড়াই বছর পর গত ২৮ অক্টোবর জগন্নাথপুরের আছিমশাহ’র উরুস থেকে রাতে বাড়ি ফেরার পথে মনাইভাংতি নামক স্থানে সরোয়ার হোসেনের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত সোমবার গভীর রাতে পুলিশ খবর পায় দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য ভাড়াটিয়া লোকজন এলাকায় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান নিয়েছে। এমন খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সত্তারের ভাই লন্ডন প্রবাসি আব্দুল কাহারের বাড়ি থেকে অস্ত্রসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জনকে আসামী করে মামলা করেছে গতকাল। অপর দিকে হামলায় শিকার আহত যুবকের বাবা সুন্দর আলী বাদি হয়ে ২২ জনকে আসামী করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ পৃথক অভিযানে ওই রাতে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যুক্তরাজ্য প্রবাসি আব্দুল কাহারের ভাই আব্দুস সত্তার জানান, ছোট বাচ্চাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন ৩/৪ দিন আমাদের পক্ষের আব্দুল আজিজের ওপর হামলা করেছে। এই ঘটনার আড়াই তিন বছর পূর্বে রানা মিয়াকে তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা কোনো পক্ষের ওপর হামলা করেনি।
অপর দিকে আব্দুল জলাল জানান, আমাদের এক যুবককে প্রতিক্ষের লোকজন হত্যার উদ্যেশে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। সে এখন আইসিইউতে রয়েছে। হামলার পর প্রতিপক্ষের লোকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে আমাদের লোকজনের ওপর হামলার জন্য প্রস্তুতি নেয়। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে।
জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাশ জানান, বিভিন্ন এলাকার ১৩ জন ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ জড়ো করার খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে আবুল কাহারের বাড়ি থেকে একটি পাইপগান, লোহার একটি তলোয়ার ও দেশীয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ তাদের আটক করি। পরে অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর খলিলুর রহমান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল এলাকায়। তবে বর্তমানে পরিস্থিত শান্ত রয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুপক্ষের পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে ইসহাকপুর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ বিষয়টি নজরদারি করছিল যে কারণে বড় ধরনের সংঘাতের আগেই আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।