জগন্নাথপুরে ৬ দিনে ৩সংঘর্ষ- হাওরের ফসল তোলতে শঙ্কা

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রবাসী অধ্যষিত অঞ্চল হিসেবে জগন্নাথপুর উপজেলা খ্যাতি পেলেও মূলত এ উপজেলার মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গেই জড়িত। বর্তমান সময়ে বোরো ফসল গোলায় তোলার কাজে কৃষক পরিবারের লোকজন ব্যস্ত রয়েছেন। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহের ৬দিনের মধ্যে তিনটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন কৃষকের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তঃসত্তা নারীসহ ৬৪ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘন ঘন সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠার পাশাপাশি আতংক বিরাজ করছে। সংঘর্ষের জড়িত অধিকাংশে ব্যক্তি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল বুধবার উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের চাঁন মিয়া ও ওই এলাকার রুহেল মিয়ার লোকজনের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ ৪০ জন আহত হন। স্থায়ীরা জানিয়েছেন উভয়পক্ষের লোকজনই কৃষিকাজের সঙ্গে সস্পৃক্ত।
৮ এপ্রিল রোববার একই ইউনিয়নের কুবাজপুর (নতুনপাড়া) গ্রামের কৃষক নুরুল হকের সঙ্গে নিকটবর্তী পাইলগাঁও ইউনিয়নের শহীদ মিয়া, সুভাস করগংদের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে কৃষক নুরুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনাায় নিহত নুরুল হক পক্ষের ৪জন
আহত হন। নুরুল হকের পাকা বোরোক্ষেতের ধান প্রতিপক্ষের লোকজন গরু দিয়ে খাওয়ানোর জের ধরে এ সংঘর্ষের সুত্রপাত ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ৮জনকে আটক করে সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়েছে। এব্যাপারে জগন্নাথপুর থানায় ৯জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। গ্রেফতারি ভয়ে শহীদ মিয়ার বাড়ির লোকজন ও কর সম্প্রদায়ের মানুষজন পালিয়ে বেরাচ্ছে। এঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ৯ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় নলুয়া হাওর বেষ্টিত চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের দাসনাগাঁও গ্রামের কৃষক টুনু মিয়া ও মজনু মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তঃসত্তানারীসহ ২০জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ টুটু মিয়াসহ ৮জনকে আটককে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এরাও শতভাগ কৃষির ওপর নির্ভরশীল বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রনধীর কান্ত দাস নান্টু জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত দুই বছর ফসলহারানো কৃষকরা এখন চলতি বোরো ফসলের পাকা ধান কাটা ও গোলায় তুলতে ব্যস্ত। সংঘর্ষের কারণে ফসল ঘরে তুলতে চরম অসুবিধা হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে আমাদের উপজেলা পরিচিত হলেও দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের আত্মীয় স্বজনরা কৃষি পেশায় নিয়োজিত। গত ৬দিনের মধ্যে তিন সংঘর্ষের ঘটনায় কৃষক পরিবারের লোকজনই বেশি সম্পূক্ত। এতে আমরা উদ্বিগ ও শঙ্কিত হয়েছি। এলাকার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন আরও কঠোরতার সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি আহবান জানান।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাচাঁও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, টানা দুইবছর ফসল হারিয়ে কৃষকরা যখন ফসল তুলতে ব্যস্ত তখন কৃষক পরিবারের লোকজন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। এটি খুবই দুঃখজনক। পর পর তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন।
জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬জন। এলাকার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে।