জগন্নাথপুর হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব নিয়ে তোলপাড়

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দার সিঁড়ির নিচে এক প্রসূতি মহিলা সন্তান প্রসব করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর পৌরশহরের বাড়ী জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা শফিক মিয়ার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী রুজিনা বেগম (২৫) এর প্রসব ব্যথা শুরু হলে সকাল ১০টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নারী বিভাগে দায়িত্বরত নার্স আলেয়া বেগম ও জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ হোসেন প্রসূতি নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভর্তির প্রায় দুই ঘন্টা পর সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় নিচের সিঁড়ি থেকে নামার সময় প্রসব ব্যথায় কাতর হয়ে ওই নারী সন্তান প্রসব করেন। তবে ওই নবজাতক সন্তান মৃত হয়েছে। পরে প্রসূতি মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিরত প্রসূতি নারী রুজিনা বেগম বলেন, আমার প্রসব ব্যথা শুরু হলে সকালের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হই। ভর্তির পর দায়িত্বরত নার্স আলেয়া বেগম আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, আমার বুকে প্রচুর পানি জমে আছে। এখানে থাকলে মারাও যেতে পারি। এক পর্যায়ে নার্স ও দায়িত্বরত ডাঃ সাজ্জাদ হোসেন আমাকে বের করে দেন। কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার সময় প্রচন্ড প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারিন্দার সিঁিড় থেকে নিচে নামার সময় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারি, আমি এক মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করেছি।
জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শফিকুল হক বলেন, প্রসূতি ওই নারী রুজিনা বেগম আমার আত্মীয়। খবর পেয়ে আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জেনেছি, নার্স, ডাক্তারের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এবিষয়ে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুুতি নিচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সের দায়িত্বরত নার্স আলেয়া বেগম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রসূতি মহিলা নিজের ইচ্ছায় সিলেটে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের হয়ে গিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সকাল ১০টার দিকে ওই প্রসূতি মহিলাকে নিয়ে তার পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন। আমরা তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করি। তখন প্রসূতি মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার জন্য। মহিলার অনুরোধে আমরা তাকে ওসমানিকে রেফার করি। দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামার সময় তার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে আমরা দ্রুত তাকে চিকিৎসা দেই। তখন ওই মহিলা এক মৃত সন্তান প্রসব করেন। সন্তানের মা এখন সুস্থ রয়েছেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামসু উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকায় আছি। ঢাকা থেকে ফিরে এসে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত টিম গঠন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।