জগন্নাথপুুরে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে লোকবল সংকট

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক দিন ধরে এ সংকটের কারণে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক পরিবারসহ হাঁস-মোরগ, ছাগল-ভেড়া, কবুতর-কোয়েল খামারিরা।
স্থানীয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলায় গাভীর তালিকাভূক্ত খামার ৩৫টি, ছাগলের খামার ২৫টি, ভেড়ার খামার ৪৬টি, হাঁস-মুরগীর খামার রয়েছে প্রায় দু’শতাধিক। গবাদিপশু রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, মহিষ ১শত, ছাগল ৯ হাজার, ভেড়া ১০ হাজার, মুরগি ৩ লাখসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখি রয়েছে আরো লক্ষাধিক।
এসব গবাদি পশু ও হাসঁ-মুরগিসহ গৃহপালিত প্রাণিদের চিকিৎসা সেবা ও খামারিদের পরামর্শ দিয়ে থাকে এই দপ্তরের লোকজন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীসহ গৃহপালিত প্রাণি বঞ্চিত হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ১১টি পদের মধ্যে ৭টি পদই রয়েছে পাঁচ বছর ধরে শূন্য।
শূন্য পদগুলো হলো ভেটেরিনারী সার্জন ১জন, ভেটেরিনারী কম্পাউন্ডার ১জন, ভিএফএ ২জন, ইউএলএ ১জন, অফিস সহকারি ১জন, ড্রেসার ১জন। এই পদগুলো শূন্য থাকায় গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবা নিয়ে উপজেলাবাসী পড়েছেন বিপাকে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, এমএলএসএস, ভিএফএ, এসএএআইসহ ৪পদের লোকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কোনভাবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখে চলেছে।
সেবা নিতে আসা উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের লোহারগাঁও গ্রামের আবু জিলানী আবু নামে এক খামারী জানান, লোকবল সংকটের কারণে আমরা বঞ্চিত হচ্ছে সরকারী সেবা থেকে। এর মধ্যে অধিকাংশ সময়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে উপজেলা সদরে এসেও সুফল না পেয়েই চলে যেতে হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুল আহমেদ খান বলেন, দপ্তরের অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। উপজেলা ও জেলায় কো-অর্ডিনেশন সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করে আসছি অনেকবার। তাছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। দ্রুত এই সংকট সমাধান করা জরুরী ।