জগন্নাপুরে সহস্রাধিক  ব্যবসায়ী পানিবন্দি

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের (আব্দুস সামাদ আজাদ আঞ্চলিক মহাসড়ক) দুই পাশের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে সড়কের দুই পাশের ব্যবসায়ীরা পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই আবাসিক এলাকার বিদ্যুতের সাব স্টেশন এলাকা থেকে শহরের অটোরিকশা-টেস্পু অস্থায়ী স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় চারশত মিটার লম্বা এলাকা জুড়ে জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের দুইপাশের সহ¯্রাধিক দোকানপাটের সামনে পানি জমে আছে। এরমধ্যে অনেকের দোকানকোঠায় পানি প্রবেশ করছে। আবার কেউ কেউ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। এছাড়াও সড়কের নিকটবর্তী এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছেন।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৮ সালের মার্চ মাসের দিকে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়। কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড। সড়কের কাজের সঙ্গে জগন্নাথপুর পৌর শহরে প্রায় ১ কিলোমিটার ড্রেনের কাজও শুরু হয়। ইতিমধ্যে ড্রেনের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। তবে শহরের ইকড়ছই বিদ্যুতের সাবস্টেশন থেকে জগন্নাথপুর সদর বাজারের পশ্চিম অংশের অটোরিকশা-টেস্পু স্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত ড্রেনের কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ধীরগতিতে চলছে কাজ। গত বছর এ এলাকায় সড়কের দুইপাশে ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ে লম্বা খালের ন্যায় করে রাখা হয়েছে। গত এক বছরেও শেষ করা হয়নি কাজ । ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পৌর শহরের ইকড়ছই আবাসিক এলাকার জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, গত এক বছর ধরে ড্রেনের কাজের নামে মাটি কেটে লম্বা খালের মতো করে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বন্যার রূপ নেয়। দোকান ঘরেও ঢুকে যায় পানি। পানির জন্য ক্রেতারা দোকানে আসতে চায় না।
আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুরো বর্ষা মৌসুমই ঝড়-বৃষ্টিতে পানিবন্দি থাকতে হয় সড়কের দুই পাশের ব্যবসায়ীদের। কচ্ছপ গতিতে চলছে ড্রেনের কাজ। ফলে আমরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তিনি দাবি করেছেন।
ইকড়ছই আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মছদ্দর আলী বলেন, ড্রেনের কাজ শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতেই বন্দি থাকতে হয় আমাদেরকে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাসাবাড়ির আশপাশ এলাকায় জুড়ে পানি জমে থাকে। যাতায়াতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল আহমদ বলেন, পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা দুর্ভোগে পড়েছেন। ড্রেনের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের বার বার তাগিদ দিচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স লিমিটেডের সাইট ম্যানেজার জামাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সুনামগঞ্জের সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ড্রেনের কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, বৃষ্টিপাত কমলে কাজ শুরু হবে।