জগলুল, জনগণ কাঁদছে

মাহবুবুল হাছান শাহীন
সুনামগঞ্জের অকাল প্রয়াত জনপ্রতিনিধিদের কাতারে শামিল হলেন আয়ুব বখত জগলুল। এর আগে আমাদের চোখের সামনে থেকে এক এক করে হারিয়ে গেছেন ইকবাল হোসেন চৌধুরী, মমতাজ ইকবাল, মনোয়ার বখত নেক, দেওয়ান মমিনুল মউজদীন, হুয়ায়ুন কবীর জাহানূর। যাঁদের অভাব মানুষ প্রতি মুহূর্তেই অনুভব করে।   
৩১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ একটি মাসের শেষ এবং আরেকটি মাসের শুরু সময়ের হিসাবে ২৪ ঘন্টা। ১৪৪০ মিনিট, ৮৬ হাজার ৪০০ সেকেন্ড। খুব কি বেশি? নিজেদের জীবনে কতশত মিনিট সেকেন্ড অকারণেই হারিয়ে ফেলেছি, ইয়ত্তা নেই। এই ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জবাসীর জন্য ভয়ংকর সত্য নিয়ে এসেছে। ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে আমার একটি ব্যক্তিগত অভিমত দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ছাপা হয়েছে। একান্তই ব্যক্তিগত মতামত, অনেকেই নিজের মতো করে মন্তব্য করেছেন। সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে নৌকার কান্ডারীদের নিয়ে লেখা। বিভিন্ন কারণেই প্রতিটি থানায় কিছু মানুষের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে। সেই সুবাদে লিখা। সুনামগঞ্জ ৪ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনাব আয়ুব বখত জগলুলকে মনোনয়ন দিলে দল ভালো করবে এ অভিমত ছিলো আমার। অনলাইনে আমার লেখা দেখে তিনি মুচকি হেসেছেন। পর দিনই ভয়ংকর সত্য হয়ে আসল সেই সংবাদ। যে সংবাদ মানুষের জীবনে অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু তার জন্য আমরা প্রস্তুত নই। ২য় মেয়াদে মেয়র হওয়ার পরই জেলা পরিষদ প্রশাসক নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা, জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আমরা দেখেছি। পরবর্তিতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি প্রোগ্রামেই তাঁর সরব উপস্থিতি জনগণকে আশান্বিত করেছিলো। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি।
এ লেখা দীর্ঘায়িত করতে চাই না। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল উঠেই ব্যবসায়িক কাজে মঙ্গলকাটা গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে বাসা থেকে একটি ফোন পেলাম। একটা ইতিহাস সমাপ্তির ঘন্টা শুনলাম। নিজের কানেই বিশ্বাস করতে পারছি না, নিজের মনকেই বুঝাতে পারছিনা। তারপরও এটাই জগতের নিয়ম। মানতে হবে এবং সময় তার নিজের মতো করেই এগিয়ে যাবে।
মঙ্গলকাটা বাজারের নিজের কাজ দ্রুততার সঙ্গে সমাপ্ত করলাম। যে লোকই শুনেছে আঁতকে উঠেছে, স্তম্ভিত হয়েছে। যার কোন ভাষা হয় না অনুভবে বুঝা যায়। এই দুই ঘন্টায় অন্তত একশ ফোন পেলাম। বন্ধুবান্ধব, দলের কর্মী, বিরোধী দলের কর্মী, সাধারণ জনগণ মানুষের সকলের মনে আফসোসের শেষ নেই। এ আফসোস শুধু চলে যাওয়ার নয়, নৈতিকতার প্রশ্নে অটল জনপ্রতিনিধির প্রতি ভালোবাসার।
মানুষ যখন আয়ুব বখত জগলুলকে ভালোবাসার আসনে স্থান দিয়ে আরো বড় পরিসরে কল্পনা করেছে তখনই ছন্দপতন। হালুয়ারঘাটে এসে যখন খেয়া নৌকায় নদী পাড় হচ্ছিলাম, নৌকা থেকে ঘাটে  স্থাপিত ব্যানারে তাঁর ছবিটা দেখে প্রতিটি মানুষই আফসোস করেছে। নিজের অন্ত:কষ্টের সঙ্গে চোখে চিকচিক করেছে দু’ফোঁটা অশ্রুজল।
আল্লাহ তাঁর পরিবারকে ধৈর্য্য ধরার শক্তি দিন। অন্ততলোকে যেনো তিনি ভালো থাকেন। ঐ দূর আকাশের তারা হয়ে তিনি আমাদের দেখছেন। আয়ুব বখত জগলুল, দেখুন ‘জনগণ, আপনার জন্য মন খোলে কাঁদছে।’



আরো খবর