জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের শিথিলতা কেন?

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকা- জোরদার করার জন্য আওয়ামী লীগের বেশ কিছু সাংগঠনিক কর্মসূচী রয়েছে। এইসব কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য শাখা কমিটিগুলোকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে সভা. সমাবেশ, গণসংযোগ, গণসচেতনতা তৈরিসহ ২১ জুলাই’র মধ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা অন্যতম। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের এই নির্দেশনা পালিত হয়নি। পাশাপাশি সহযোগী দৈনিক সুনামকণ্ঠের প্রধান প্রতিবেদন থেকে জানা যায় পুরো জেলায়ই আওয়ামী লীগের জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মসূচী বাস্তবায়নের অগ্রগতি হতাশাজনক। ঈদের আগে ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগা ময়দানে হামলার পর সারা দেশ আতঙ্কিত হয়ে উঠে যার রেশ এখন অবধি চলছে। দল ও সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচী ও প্রশাসনের মাধ্যমে জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রমকে জোরদার করার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন বটে কিন্তু নিজ দল আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে এই কাজে সম্পৃক্ত করতে দৃশ্যত ব্যর্থ হচ্ছেন। আমরা জানি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রধান শক্তি জনগণ এবং সংগঠন। জনগণের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী মাধ্যমের নামই সংগঠন। যে সংগঠন জনগণের সাথে সংযোগসূত্র তৈরিতে ব্যর্থ হয়, একটা সময়ে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগের কি আজ সেই দশা লেগেছে?
ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে বড় সংকট। এই সন্ত্রাস ঠেকাতে বিশ্ববাসী আজ হিমশিম খাচ্ছে। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এই ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণের শিকার হচ্ছে মাঝে মধ্যেই। বহু দেশ এই অপপ্রপঞ্চের কবলে পড়ে ইতিহাস-ঐতিহ্য ধ্বংস করে ফেলেছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিটিও আজ এই অপশক্তির নখের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এরকম সংকটকালে সবসময়ই সংগঠন রেখেছে মূল ভূমিকা। একাত্তর পূর্ববর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তর পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রাম সর্বত্রই সংগঠন, কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ সফলতা ছিনিয়ে এনেছে। কিন্তু আজ যখন এই সাংগঠনিক তৎপরতার দরকার সবচাইতে বেশি তখনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আলস্য ঝেড়ে মাঠে নামতে পারছে না। এর পরিণাম দল, সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য কতোটা ভয়াবহ হতে পারে তা বোধ করি সংগঠনটির নানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অনুধাবন করতে পারছেন না। যখন বুঝতে পারবেন তখন আসলে কোন কিছু করার থাকবে না।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ‘চারিদিক শান্ত থাকাকে আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস’ বলে আকারে ইঙ্গিতে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করছেন। আওয়ামী লীগকে নিয়ে অতীত ইতিহাস স্মরণ করলে এসব কথার সারবত্তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। পচাত্তরের বিয়োগান্তক ঘটনা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাÑ এমন দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ষড়যন্ত্রেরই ফসল। জ্বলন্ত উনুনে চড়ে আওয়ামী লীগ আজ সরকার পরিচালনা করছে। আগুন তাকে পুড়াতে চাইবে না, এমন চিন্তা করাটাই বোকামী। সুতরাং সব সময় দলকে সতর্ক ও জনসম্পৃক্ত থেকে এইসব চক্রান্ত মোকাবিলায় তৎপর থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় মানেই আত্মহননের শামিল।
দল ক্ষমতায় আছে, সবকিছু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করবে, আমরা বসে বসে সুযোগ সুবিধার ভাগ-বাটোয়ারা করব আর আরামে দিন কাটাবÑএমন আয়েশী চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আওয়ামী লীগকে। তৃণমূলে বিস্তৃত বিশাল সংগঠনটির প্রতিটি শাখা-প্রশাখাকে আজ গতিশীল করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিষবৃক্ষরূপে যে জঙ্গিবাদ হিং¯্র ফনা তুলেছে তাকে দমন করতে তাই সংগঠনটির ব্যাপকভাবে গণসম্পৃক্ত কর্মসূচী কামনা করছি আমরা।