জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করতেন তিনি- বিএনপি মহাসচিব

স্টাফ রিপোর্টার
সাবেক হুইপ বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ফজলুল হক আসপিয়ার শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে শহরের জামতলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
শোকসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফজলুল হক আসপিয়া আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা তাকে যেনো বেহেস্ত নসিব করেন। সুনামগঞ্জের বিএনপির নেতাদের কাছে এই আবেদন রাখছি তারা যেনো তাদের নেতার আর্দশ বাস্তবায়নের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
তিনি আরও বলেন, আসপিয়া একজন ব্যতিক্রমী মানুষ ছিলেন। উনার ইন্তেকালের কিছুদিন আগেই নেতাকর্মীদের নিয়ে বাসায় গিয়েছিলেন। তখন আমার মনে হয় নি আমার প্রিয় মানুষকে এতো তাড়াতাড়ি হারিয়ে ফেলবো। যদিও তার বয়স হয়েছিলো। তবুও তিনি সব সময় একজন যুবকের মতো উদ্যোমী ছিলেন। পরে খবর পেলাম তিনি করোনায় আক্তান্ত হয়েছেন। এর কয়েকদিন পরে শুনলাম তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি তখন তার জানাযায় এসে উপস্থিত হতে পারি নি। আমি তখনই ঠিক করেছিলাম যে, কখনো যদি সুনামগঞ্জ যাই তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আসবো। যখন মিলন সাহেব গিয়ে বললেন, তারা একটা শোকসভা করবেন, আমি গেলে ভালো হয়। আমি সাথে সাথে শোকসভায় আসার জন্য সম্মতি জানিয়েছিলাম।
আজকে আমাদের কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম থাকা সত্ত্বেও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে শুধু মাত্র এই মহান মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শোকসভায় উপস্থিত হয়েছি।
ফখরুল বলেন, আসপিয়া সাহেবরা সব সময় জন্মান না। আমরা অনেকেই বিভিন্ন কারণে রাজনীতি করি। কেউ অনেকে পদপদবীর জন্য করেন। কেউ আবার সমাজে বিত্ত তৈরি করার জন্য করেন। কিন্তু আসপিয়া সাহেবকে দেখেছি সব সময় জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করতে। আসপিয়া সাহেব এমন একটা সময়ে চলে গেলেন যখন তাঁকে আমাদের খুব দরকার ছিলো। উনার বয়েস হয়েছিলো। কিন্তু কখনো তাকে বয়ষ্ক মনে হয়নি, বরং তরুণ মনে হতো। শেষ সময় যখন আমাদের দেখা হলো তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ম্যাডাম কেমন আছেন?’, ম্যাডামের জন্য বুক খুব কাঁদে।
আমরা আজকে সবাই অত্যন্ত ভারাক্রান্ত, যে নেত্রীকে আমরা লক্ষ করে সামনের দিকে চলি, যাকে কেন্দ্র করে সেই ১৯৮১-৮২ সাল থেকে অনুসরণ করি। তিনি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরে আমাদের নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। সেই নেত্রী আজকে খুবই অসুস্থ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট বিভাগের বর্ষিয়ান নেতা সকলের অভিভাবক ফজলুল হক আসপিয়া। আজকে আমাদের অত্যন্ত শোকের দিন। আসপিয়া সাহেবের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সর্ম্পক। আমার এখনও মনে আছে, তাঁকে নিয়ে প্রথম সুনামগঞ্জে জাতীয়তাবাদী দল গঠন করি মাহমুদ আলী সাহেবের বাড়িতে। তখন অ্যাড. শহীদ আলী, বেগম ফাতেমা চৌধুরী সহ তাদের সফর সঙ্গী আমিও ছিলাম। এরপর থেকে এই পর্যন্ত বিএনপিকে শক্তিশালী করবার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন ফজলুল হক আসপিয়া। তাঁর ন¤্রতা, ভদ্রতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার যতটুকু শিখেছি, সেটা যদি ধরে রাখতে পারি পুরো সিলেট বিভাগের বিএনপিকে আমরা সংগঠিত করতে পারবো।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুলের সঞ্চালনায় শোকসভায় বক্তব্য দেন- খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য ডা. এনামুল হক, খন্দোকার আব্দুল মুক্তাদীর, ব্যারিস্টার আব্দুস সামাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতন, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, প্রয়াত দলীয় নেতা ফজলুল হক আসপিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার আবিদুল হক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাদীর আহমদ, অ্যাডভোকেট মঈনুদ্দিন সোহেল, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, আকবর আলী, সেলিম উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।