জনগণের টাকা খাচ্ছেন, কাজ করুন : পরিকল্পনামন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
জনগণের করের টাকায় বেতন হয়- এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারি চাকুরেদের কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা খাচ্ছেন। তাদের জন্য কাজ করেন। দিনের কাজ দিনে শেষ করবেন, বসিয়ে রাখবেন না।’
শনিবার রাজধানীর এনইসি ভবনে স্টেকহোল্ডারর্স কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অন এডিপি-আর এডিপি বাজেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এবিএমএস) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মান্নান।
ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে নানা সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরও কাজের বেলায় ‘এনালগ’ থাকায় কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন মন্ত্রী। আহ্বান জানান, এই খোলস থেকে বেরিয়ে আসার।
মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে এসেও এনালগ যুগের কাজ করব না। আমাদের কাজ স্লো হলে জাতির জন্য মঙ্গলকর হবে না।’
‘আপনি কাউকে ভয় পাবেন না। এখানে মন্ত্রী-সচিব সবাই সমান। আমরা নিজের কাজগুলো নিজেরা করব।’
ডিজিটাল ডাটাবেইজ সিস্টেমের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পগুলোতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই হচ্ছে না। কাজের প্রতি দরদ নেই। আপনারা এই খোলসের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুন। খোলসে কেবল জনগণের ক্ষতি হয় না, সরকারেরও ক্ষতি হয়। আমাদের মধ্যে অসংখ্য ঝঞ্ঝাট আছে। আসুন এগুলো বাদ দেই।’
যেকোনো জায়গায় ফাইল নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে আপনারা নিজের পছন্দমতো ফাইল নিয়ে আসেন। কিন্তু জনকল্যাণমূলক ফাইল আনেন না, এটা করবেন না। আমি আপনাদের বিশ্বাস করে সব ধরনের ফাইল অনুমোদন করে দেই।’
কর্মশালায় পরিকল্পনা সচিব নূরুল আমিন বলেন, ‘বছরের শেষ বেলা এসে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ফাইল পাঠাচ্ছে অর্থ ছাড়ের জন্য। প্রকল্পগুলোর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে আমার যথেষ্ট চিন্তা হচ্ছে।’
‘আগামীতে এসব প্রকল্প ১৫ জুনের মধ্যে শেষ করার জন্য বলা হবে। আমরা সব ফাইল অনলাইনভিত্তিক করব। যাতে ফাইল নিয়ে দৌঁড়ঝাঁপ করতে না হয়। আমাদের অফিস হবে পেপার লেস।’
এ সময় প্রকল্প পরিচালক মো. ছায়েদুজ্জামান, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন, কার্যক্রম বিভাগের প্রধান মো. খলিলুর রহমান খানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সরকারের বিনিয়োগ (উন্নয়ন বাজেট) ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভাগে নতুন ডাটাবেইজ ও রিপোর্টিং সিস্টেম স্থাপন করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দিন দিন একটা সম্পূর্ণ নতুন জগৎ আসছে। এটা বাংলাদেশে পরে আসবে। কারণ, আমরা বিজ্ঞানমনস্ক জাতি নই। অভিজ্ঞও নই। উই আর নট এ সাইন্টিফিক্যালি ওরিয়েন্টেড পিপল। আমরা বিজ্ঞানকে সমীহ করি, কিন্তু বন্ধু ভাবি না। এটা আমাদের চরিত্রের মধ্যে বৈপরীত্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে আগ্রহী হলেও সেগুলো কীভাবে তৈরি হয়, সেটা সম্পর্কে আগ্রহী নই। আমরা টাকা দেব, আনব। ওইসব যন্ত্রের ব্যাপারে নিজেরা খোলসা করছি না। ভালোবাসাও নেই। কিন্তু ব্যবহার করি। অথচ প্রযুক্তি খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সরকার, কিন্তু ছুঁই ছুঁই করে ধরছি না।’
এসব কারণে সারাবিশ্ব থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে বলেও মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তবে নতুনরা এই খোলস থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র : ঢাকাটাইমস