জনে জনে আলাপচারিতা

বিশেষ প্রতিনিধি
তফশিল ঘোষণার পর সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদের প্রার্থীতা নিয়ে পৌর এলাকার সর্বত্র আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রার্থী কারা হবেন, কোন দলের মনোনয়ন কে পাবেন? এই নিয়ে আলোচনা চলছে জনে জনে। আগ্রহী প্রার্থীরা গণসংযোগও শুরু করেছেন। আত্মীয়-স্বজন, মহল্লা ও  নিজ নিজ বলয়ের অনুমতি নিতেই ব্যস্ত এখন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। উপ-নির্বাচনে ৭ প্রার্থী মেয়র পদে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করে মাঠে নেমেছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন দেবার পর প্রার্থী তালিকা ছোট হয়ে আসবে বলেই মনে করছেন পৌরসভার ভোটাররা। মনোনয়ন তদবিরে আছেন আওয়ামী লীগের ৩ ও বিএনপির ৩ সম্ভাব্য প্রার্থী। এই ৬ জনের মধ্যে দলীয় প্রতীকে লড়বেন ২ জন। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন ৩ প্রার্থী। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়াই ত্রিমুখী না কী দ্বিমুখী হবে, এটি প্রচারণা শুরু হলেই বুঝতে পারবেন পৌরবাসী।
নির্বাচনী আলাপচারিতায় আবারও ওঠে এসেছে প্রয়াত পৌর মেয়র মমিনুল মউজদীন (তৎকালীন চেয়ারম্যান) ও আয়ুব বখ্ত জগলুলের নাম। সাম্প্রতিক কালের এই দুই নন্দিত প্রয়াত জনপ্রতিনিধিই ভোটারদের হৃদয়ে রয়েছেন। ভোটাররা উপ-নির্বাচনেও এমন জনসেবক প্রার্থী বাছাই করতে চান।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট খায়রুল কবীর রুমেন পিপি ও প্রয়াত পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের ছোট ভাই নাদের বখ্ত।
বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লড়তে চাইছেন বিগত দুই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি নেতা জেলা জাসাস’এর সভাপতি অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল্লা আল নোমান, বিএনপি নেতা দেওয়ান সাজাওয়ার রাজা চৌধুরী সুমন।
বিগত পৌর নির্বাচনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান মমিনুল মউজদীনের ভাই দেওয়ান গণিউল সালাদীন   এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবেই ভোটযুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের সকলেই সোমবার দিনভর ব্যস্ততায় কাটিয়েছেন। কেউ আত্মীয়-স্বজন বা দলের ঘনিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কেউবা নিজ মহল্লায় গণসংযোগ আবার কেউ কেউ পেশাজীবীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সকলেরই দাবী দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন না তাঁরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক দেওয়ান গণিউল সালাদীন বললেন,‘আমি গত নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম, নির্বাচনের ফল প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, আমার ভোটারদের দাবী আমি বিজয়ী হয়েছিলাম, আমার ফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, অনেক কেন্দ্রে জোর করে ভোট দেওয়া হয়েছে, উপ-নির্বাচনে আমি আবারও সম্মানিত ভোটারদের সহযোগিতা ও সমর্থন চাই।’
নাদের বখ্ত বললেন,‘আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, আমার বড় ভাই আয়ুব বখ্ত জগলুল জনসেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তাঁর অকাল মৃত্যুতে আমি আমার দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন, ভোটারদের ভালবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। আশা করি ভোটাররা আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না।’
দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বলেন,‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, দলের বাইরে আমার কোন সিদ্ধান্ত নেই। দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি, মনোনয়ন পেলে সম্মানিত ভোটারদের কাছে যাব।’
অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ বললেন,‘আমি রাজনৈতিক কর্মী, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আন্তরিক, দল ঐক্যবদ্ধভাবে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করবো এবং বিজয়ী হবো।’
অ্যাডভোকেট খায়রুল কবীর রুমেন পিপি বলেন,‘সুনামগঞ্জ শহরের উন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাসড়কে সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে যুক্ত করার জন্য আমি নির্বাচন করতে চাই। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি নির্বাচন করব।’
দেওয়ান সাজওয়ার রাজা চৌধুরী বলেন,‘আমি গণমুখী মানুষ। প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান মনোয়ার বখত নেক ও মমিনুল মউজদীনের রাজনৈতিক প্রভাব আমাকে উৎসাহিত করেছে। আমি তাঁদের পথ ধরে জনসেবা করতে চাই। বিএনপির মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেব আমি।’
আব্দুল্লাহ আল নোমান বললেন,‘জনগণ এবং পৌর পরিষদের মতামতের ভিত্তিতে, আধিপত্যবাদমুক্ত পৌরসভা গঠনের লক্ষে আমি নির্বাচন করতে চাই। আমার প্রার্থীতা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্তের উপর।’
গত পহেলা ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ পৌরসভার দুই বারের নির্বাচিত মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের আকস্মিত মৃত্যুতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী আগামী ২৯ মার্চ পৌর নির্বাচন।
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিগত পৌর নির্বাচনে ৪৩৫৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৪ হাজার ৮৪৫, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০ হাজার ৪৮৬। অন্য প্রার্থী বিএনপির অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ পেয়েছিলেন দুই হাজার ৪১৪ ভোট। গত নির্বাচনে পৌরসভার ভোটার ছিলেন প্রায় ৩৬ হাজার, এবার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার ভোট।