জবাব পাল্টা জবাব

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেছেন, ‘সাহেব নই, একজন কর্মী হিসেবে থাকতে চাই। গত পাঁচটি বছর আমি পায়ে পায়ে হেঁটেছি। সততার সাথে, ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে মানুষের সাথে থেকেছি। লাঙল প্রতীক নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছি। আমি বিত্ত-বৈভবের পেছনে ছুটি নাই। আমি শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাসী। ’
জেলা জাপার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পীর মিসবাহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনকে ইঙ্গিত করে সভায় বলেন,‘গত কয়েকদিন আগে সুনামগঞ্জের এক নাবালক বলেছেন, সুনামগঞ্জ সদর থেকে লাঙলকে নাকি হটাবেন। এই লাঙলকে হটানো যায় না। এই লাঙল মানুষের হৃদয়ের লাঙল, মানুষের ভালবাসার লাঙল। সুনামগঞ্জ লাঙলের ঘাটি। সুনামগঞ্জের মাটিতে লাঙলের শিকড় গেঁড়ে আছে। কারো শক্তি নাই সদর আসন থেকে লাঙলকে হটাতে। সুনামগঞ্জ সদর আসন থেকে আপনি লাঙল হটাতে পারবেন না। মানুষের ভালবাসায় এই আসনে লাঙল টিকে থাকবে। মানুষের ভালবাসা, লাঙলের ভালবাসার কাছে আপনি টিকতে পারবেন না। সুনামগঞ্জের মানুষ শান্তি- সম্পীতিতে বিশ্বাস করে, বেয়াদবিতে বিশ্বাস করে না। আমি বেয়াদবির ভাষায় কথা বলি না। ’
পীর মিসবাহ’র ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন টেলিফোনে সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ গত ৯ তারিখ নৌকার যে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে তা দেখে জাতীয় পার্টি হতাশ হয়েছে। এরশাদ নিজে এসে নির্বাচন করলেও আমার সাথে পাশ করতে পারবেন না। পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে এলাকায় এনেও আমাদের সমান নেতাকর্মী জমায়েত করতে পারেন নি তারা। রাজনীতি করতে হয় মানুষের জন্য। দুর্নীতি-লুটপাট সুনামগঞ্জে চলবে না। আমি ৪০ কোটি টাকার হিসাব চেয়েছি। এজন্য উল্টা-পাল্টা সুর বের হচ্ছে। ’
প্রসঙ্গত, গত গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে সুনামগঞ্জ শহরে নৌকার সমর্থনে গণমিছিল বের করা হয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের নেতৃত্বে শহরে এই মিছিল বের হয়।
গণমিছিলের আগে পৌর শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ হয়। সমাবেশের পর দুপুরে শহরে গণমিছিল বের হয়। মিছিলে শেখ হাসিনা, নৌকা মার্কা ও এনামুল কবিরের সমর্থনে নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেছিলেন, ‘আমাকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিই। সে হিসেবে আগামী নির্বাচনে এখানে আমিই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এবার শরিকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, লাঙল হটানো হবে। জেলা আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ। আমরা সবাই আগামী নির্বাচনে এখানে নৌকার প্রার্থী চাই। ’