জমি চূড়ান্তকরণ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন সংসদ সদস্যগণ

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের জমি চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের পছন্দ করা জমিতেই বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনে সম্মতি দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ জেলার ছয় সংসদ সদস্য। শনিবার সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে বিশ^বিদ্যালয়ে জমি চূড়ান্তকরণ প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ জেলার পাঁচ সংসদ সদস্য। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও অন্য সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবে তিনি সম্মতি জানিয়েছেন।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ^বিদ্যালয়ে নির্ধারিত জমি হয়েই সুনামগঞ্জ শহরে আসেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি ও সংরক্ষিত নারী আসনের শামীমা আক্তার খানম এমপি। পরে সার্কিট হাউসে একসঙ্গে বৈঠক করেন তারা। ওখানেই জমি নির্ধারণের প্রস্তাবে সকলে স্বাক্ষর করেন।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, সুনামগঞ্জের সকল মাননীয় সংসদ সদস্যগণ বিশ^বিদ্যালয়ের জমি নির্ধারণের বিষয়ে একমত হয়েছেন। আহসানমারা সেতুর পূর্ব দিকে উত্তর-দক্ষিণ দুই পাশে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইড় মৌজায় এই জমি নির্বাচন হয়েছে। সকলে সংসদ সদস্য এই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে স্বাক্ষর করেছেন। এই প্রস্তাব অগ্রবর্তী করা হবে। তিনি জানান, ড. জয়া সেন গুপ্তা অসুস্থ্যতার জন্য সরেজমিনে না আসলেও তিনি এই প্রস্তাবে ফোনে সম্মতি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবু নঈম শেখও একই তথ্য জানান।
২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। এরপর জমি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে মতভিন্নতা দেখা দেওয়ায় দেড় বছর এর কাজে কোন অগ্রগতিই ছিল না। ১৫ জুন, ২০২২’এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ পান অধ্যাপক মো. আবু নঈম শেখ। বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জায়গার (স্থান নির্ধারণের) বিষয়টি নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় উপাচার্য সুনামগঞ্জে অফিস নিতে পারছিলেন না, আবার রাজধানীতেও বিশ^বিদ্যালয়ের কোন অফিস নেই।
২০২০ সালের সাত নভেম্বর সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় সংক্রান্ত বিল সংসদে উপস্থাপন হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টি শান্তিগঞ্জে (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) এলাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জায়গা নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে মতভিন্নতা দেখা দেয়। এরপর আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুনামগঞ্জের ‘দেখার হাওরের পাড়ে’র কথা উল্লেখ করা হয়। হাওরটি জেলা সদর, শান্তিগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। বিশাল এই হাওরের কোথায় বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে, সেটি নির্ধারণ না হওয়ায় বিশ^বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে জট তৈরি হয়েছিল। এই বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য কোন বাজেট এখনো আসে নি। উপাচার্যের অফিস, গাড়ী কিছুই নেই।
এই অবস্থায় শনিবার সকল সংসদ সদস্যগণ সরেজমিনে এসে জমি নির্ধারণ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করায় বিশ^বিদ্যালয়ে পরবর্তী কার্যক্রমে কোন বাধা থাকলো না।