জমে উঠেছে ইফতার বাজার

লিপসন আহমেদ
রমজানের শুরুতে শহরের বাজারগুলোতে জমে উঠেছে ইফতার বাজার। বিভিন্ন স্থানে নানা রকমের বাহারি ইফতার বিক্রি হচ্ছে। প্রধান সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্ট ও পাড়ার খাবারের দোকানগুলোতে ইফতার বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার বিকালে ইফতার বিক্রির দোকানগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অন্যদিনের তুলনায় মঙ্গলবার প্রকৃতি অন্য রূপে ছিল, সকালে বৃষ্টি হলেও বিকালে ছিল হিমেল বাতাস। ইফতারের দোকানগুলোতে ভিড় ছিল অন্যদিনের তুলনায় প্রায় দিগুণ।
মঙ্গলবার বিকালে শহরের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ডিএস রোডের জালালাবাদ, আনোয়ার মিষ্টান্ন ভান্ডার, তাহিতী রেস্টুরেন্ট, ছাদেক ইফতার, রহমান বেকারীসহ অন্যান্য দোকানগুলোতে সাধারণ মানুষেরা নিজ নিজ চাহিদামত চিকেন কাটলেট, চিকেন মোগলাই, বাখরখানি, জিলাপী কিনছেন।
তবে অনেক ক্রেতা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এই বছর আলোর চপ, বেগুনী, জিলাপী, আকারে অনেকটা ছোট। কিন্তু কি করার স্বাদের খাবার অল্প খেলেও মজাদার। এই বছর ব্যবসায়ীরা ইফতারীর মূল্য নির্ধারণ করেছেন-চিকেন কাটলেট প্রতি পিস ২০ টাকা, চিকেন মোগলাই ১৫ টাকা, সবজি ফ্লাই ১৫ টাকা, সবজি মোগলাই ১০ টাকা, বাখরখানি ৫ টাকা, জিলাপী ৫ টাকা, বেগুনী চপ ৫টাকা, পেঁপে চিপস ৩ টাকা, আলোর চিপস ৩ টাকা, আলোর চপ ৫টাকা, চানা ১০০ গ্রাম ১০ টাকা, পিয়াজী ১০০ গ্রাম ১২ টাকা, মাছের বড়া ৫ টাকা, শাঁকের বড়া ৫ টাকা।
এছাড়া নানা রকম মুখরোচক ইফতার সামগ্রী ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করছেন দোকানিরা।
ইফতার কিনতে আসা শুভ আহমেদ নামের এক ক্রেতা জানান, বছরের ১ মাস আমরা রোজা রাখি আর এই মাসে আমাদের বাইরে থেকে পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী যার যার প্রিয় ইফতার কিনতে হয়।
শিমলা চৌধুরী নামের আরেকজন ক্রেতা বললেন,‘আমরা বাসায়ও নানা ধরণের ইফতার সামগ্রী তৈরী করে থাকি। কিন্তু সব ধরণের ইফতার বাসায় করা সম্ভব হয় না। তাই বাজার থেকে পরিবারের ছোটদের চাহিদা মাফিক ইফতার সামগ্রী কিনতে হয়।
জালালাবাদ বেকারী ইফতার বিক্রেতা দুলাল দাশ জানান, প্রতি বছর তারা নানা রকমের ইফতার সামগ্রী বিক্রি করেন। তারা চেষ্টা করেন প্রতি বছরই ভাল কিছু তৈরী করার। তবে অন্য দিনের তুলনায় মঙ্গলবার বিকি-কিনি অনেক বেশী হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাহিতী রেস্টুরেন্টের হারুণ মিয়া জানান, মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি ছিল, ভেবেছিলাম তেমন একটা বিকিকিনি হবে না। কিন্তু এই বৃষ্টি ভেজা দিনেও অন্যদিনের তুলনায় ইফতার কিনতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল।’
ডিএস রোডের আনোয়ার মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক আনোয়ার হুসাইন বলেন,‘ আমার দোকান মিষ্টি ও দইয়ের দোকান। রামজানে মাসে স্বাভাবিকভাবেই মিষ্টি জাতীয় খাদ্য একটু কম বিক্রি হয়। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমি ইফতার তৈরি করি। প্রথম রোজা থেকে শহরের সকল শ্রেণি পেশার ক্রেতারা আমার দোকান থেকে ইফতার ক্রয় করছেন। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভাল সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।’