- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

জমে উঠেছে পশুর হাট

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে কুরবানীর পশুর হাট বসেছে। গরু, ছাগল ও ভেড়া আসা শুরু হয়েছে পশুর হাটে। জেলা সদরের পশুর হাটগুলো এখনও জমে উঠেনি। পশুর হাটে অল্প ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও পশু বিক্রি হচ্ছে কম। তবে ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে পশুর হাটও জমে উঠছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গত বুধবার থেকে পশুর হাট বসেছে। ওই পশুর হাটে প্রথম দিন ১৫টি গরু উঠেছিল, বৃহস্পতিবার পশুর সংখ্যা বেড়ে ৫০টি হয়েছে, শুক্রবার শতাধিক গরু’র পাশাপাশি বেশ কিছু ছাগলও ছিল পশুর হাটে।
বাজারের ইজারাদার জানান, আগামী রোববার রাত পর্যন্ত এই হাটে পশু বেচাকেনা করা হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার জলিলপুর গ্রামের গরু বিক্রেতা মহিম উদ্দিন ও আব্দুল জলিল জানান, ক্রেতারা হাটে এসে শুধু দাম দর করছেন। এখনও অনেকেই পশু ক্রয় করছেন না। বুধবার থেকে সুনামগঞ্জে পশুর হাট শুরু হয়েছে। গতবারের তুলনায় গরুর দাম কিছুটা বেশি। রোববার পর্যন্ত পশু আসলে দাম কম বেশি হতে পারে।
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের রাসনগর গ্রামের গরু বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, আমার ১০টি গরুর মধ্যে একটি গরু অনেক বড়। এই গরুটি আমি দাম হেঁকেছি দেড় লাখ টাকা। ক্রেতারা দাম বলেছেন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। একজন ক্রেতা দাম করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত জানান, ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায় পশুর হাট শুরু হয়েছে বুধবার থেকে। প্রথম দিন হাটে ২০টি গরু উঠেছিল। বৃহস্পতিবার গরু উঠেছে ৬০টি। আগামী রোববার পর্যন্ত চলবে পশুর হাট। গত দুইদিনে পশুর হাটে বেচাকেনা হয়নি। ক্রেতারা এসেছেন, দাম-দর করে চলে যান।
কাঠইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সামছুল ইসলাম জানান, আমার ইউনিয়নে শ্রীমতি বাজারে আগামী শনিবার পশুর হাট বসবে। বুধবারের পশুর হাটে কিছু গরু উঠেছিল। এবার গরুর দাম কিছুটা বেড়েছে। গরু বেশি পরিমাণে হাটে আসলে হয়তো গরুর দাম পরিবর্তন হতে পারে।
গরুর বাজার নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলকাটা বাজার। এই বাজারটি সপ্তাহে রবিবার ও বৃহস্পতিবার জমে উঠে। বৃহস্পতিবার বাজারে অনেক গরু উঠেছিল। কিন্তু ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি থাকলেও গরু বিক্রি হয়েছে খুবই কম।
বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রব জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসছে। বাজারে প্রচুর গরু উঠেছে। কিন্তু দাম ছাড়ছেন না গরুর মালিকেরা। আগামী রোবার হয়তো ভাল বেচাকেনা হতে পারে। গরুর মূল্যের পরিবর্তন হতে পারে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবেড় বাজারে গরুর হাট বসেছে। ইউপি চেয়ারম্যান রুশন আলী জানান, সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও রোববার গরুর হাটে অনেক গরু, ছাগল আসে। বাঘবেড় বাজারের হাটে প্রচুর গরু উঠে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি বাজারে গরুর হাট বসে। মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আবুহেনা আজিজ জানান, প্রতি শুক্রবার পশুর হাট বসে। হাটে অনেক পশু উঠে।
রঙ্গারচর ইউনিয়নের ভল্লবপুর গ্রামের ক্রেতা মশিহুর হাসান বলেন,‘ঈদ ১২ তারিখে হবে। আগে গরু কিনলে রাখার সমস্যা হবে। তাই পরে কিনব।’
শহরের মল্লিকপুর গ্রামের মোহাম্মদ সহিদুল বলেন,‘গরু কেনার আরও সময় আছে। এখন কিনলে দাম-দর বুঝা যাবে না। তাই দেরিতে কিনব।’
শহরতলীর মইনপুর গ্রামের মজিদ মিয়া বলেন,‘আগে গরু কিনলে, গরুর দাম বেশি পড়তে পারে। তাছাড়া গরুর ঘাস ও লাগবে। এই জন্য একটু দেরিতে কেনার চিন্তা করছি।’