জলাবদ্ধতার কারণে জমি অনাবাদী- বিশেষ নদী ও খাল খনন কর্মসূচী প্রয়োজন

স্থায়ী কিংবা মৌসুমী জলাবদ্ধতার কারণে জেলার বোরো জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অনাবাদী থাকছে। জামালগঞ্জের বৃহত্তর পাগনার হাওরের ৮০ ভাগ অংশ অর্থাৎ প্রায় ৮৮০০ হেক্টর জমি এবার জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদী থাকছে বলে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ থেকে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে এরূপ অনাবাদী বোরো জমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার একর। তাহিরপুরের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ৫ হাজার একর জমি চাষাবাদের বাইরে থাকার কথাটি স্বীকার করেছে। এভাবে তথ্য নিলে দেখা যাবে জেলার প্রতিটি উপজেলায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে অনাবাদী জমির পরিমাণ অনেক। আবাদযোগ্য কোন জমিকে অনাবাদী না রাখা হলো সরকারের বিঘোষিত নীতি। জলাবদ্ধতার কারণে যখন জেলার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অনাবাদী রাখতে হয় তখন আসলে ওই নীতি ভুলুণ্ঠিত হয়ে পড়ে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করলে দেখা যাবে, জমি অনাবাদী থাকার কারণে এরূপ ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ’ কোটি টাকা। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার পরও গতবছর হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ বোরো ফসল হানির কারণে সরকারকে দেশের বাহির থেকে চাল আমদানী করতে হয়েছে। সুতরাং খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে অবশ্যই আমাদের চাষযোগ্য সকল জমিকেই উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদী থাকা জমিকে চাষের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের বিশেষ কর্মসূচী দরকার। দেখা যাচ্ছে যে, হাওরের পানি নিষ্কাশনের বিভিন্ন খাল এবং এই পানি প্রবাহ যেসব নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হয় সেইসব নদীর তলদেশ নানা কারণে ভরাট হয়ে গেছে। এতে নাব্যতা সংকট হ্রাস পেয়েছে ভীষণভাবে। হাওরের পানি এখন এসব খাল ও নদী দিয়ে নামতে পারছে না। ফলে হাওরের বিভিন্ন অংশে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে থাকে। এবার বোরো চাষাবাদ অন্তত ১৫ দিন থেকে এক মাস বিলম্বিত হয়েছে হাওরের পানি সময়মত নামতে না পারার কারণে। অন্যদিকে নদী ও খাল ভরাট হওয়ায় আগাম ও অকাল বন্যায় ফসল হানির ঝুঁকি বাড়ছেই। গতবছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখতে পাই ফেব্রুয়ারি মাসেই জেলার হাওরে পানি ঢুকা শুরু হয়ে গিয়েছিল, পরবর্তীতে মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জেলার সবগুলো হাওরের শতভাগ ফসল পাকার আগেই তলিয়ে যায়। সুতরাং হাওরকে অকাল বন্যার প্রকোপমুক্ত রাখতেও নদী ও খাল খনন করা প্রয়োজন।
হাওরের স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর করা এবং অকাল বন্যার হাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষার জন্য সরকারকে বিশেষ নদী ও খাল খনন কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। এজন্য বিশেষজ্ঞ সমীক্ষার মাধ্যমে আগেই খনন পরিকল্পনা করে প্রয়োজনে মধ্যমেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে। এখন যেমন বছর বছর বাঁধের নামে বিপুল বরাদ্দ আসে, নদী ও খালগুলো খনন হয়ে গেলে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁধ নির্মাণের জন্য ব্যয় করতে হবে না বলেই স্থানীয় কৃষক ও অভিজ্ঞজনদের অভিমত।
হাওরের জীবন ও জীবিকা এবং অর্থনীতির মূল ক্ষেত্র বোরো চাষাবাদকে সংকটমুক্ত করা তথা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নদী ও খাল খনন কর্মসূচী গ্রহণের বিষয়ে আমরা সরকারের আশু মনোযোগ কামনা করি।
 



আরো খবর