‘জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে আমি মৃত্যুকেও ভয় পাই না’

লন্ডন প্রতিনিধি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে আমি মৃত্যুকেও ভয় পাই না। জাতির পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণে আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস অবধি কাজ করে যেতে চাই।
এ মন্তব্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, গতকাল ৩ আগস্ট শনিবার বিকেলে ওয়েস্ট মিনিস্টারের সেন্টার হলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত ১৫ ই আগস্টের শহীদদের স্মরণে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। তিনি বলেন তাঁর ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। যে আদর্শ নিয়ে জাতির পিতা একদিন দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমার একমাত্র লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে যুক্তরাজ্যে ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সকল বয়সের প্রবাসী বাংলাদেশীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে দলে দলে যোগদান করেন এবং অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ঘন্টাখানেক পূর্বেই অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। হলরুম ভর্তি শ্রোতার পিনপতন নিরবতার মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণের শুরুতে ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তাঁর মা-বাবা-ভাই এবং তাঁদের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার খুনীদের শাস্তি না দিয়ে খন্দকার মোস্তাক ও জিয়াউর রহমান তখন খুনীদের পুরস্কৃত করে। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে খুনীদের শুধু দায়মুক্তিই দেননি উপরন্তু বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন।
এসময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন শ্রীমতি গান্ধি আমাদের সাহায্য করেন। তিনি বলেন, লন্ডন থেকে ব্যারিস্টার টমাস উইলিয়ামকে বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্ত করতে লন্ডন থেকে পাঠানো হয়েছিল, জিয়াউর রহমান তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি।
অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং বিভিন্ন গণঅন্দোলনে তাদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশে প্রবাসীদের আরো বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দেশের শিল্পায়নে এবং জনগণের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা দেশব্যাপী একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। দেশের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের সুযোগ নিয়ে আপনারাও এখানে বিভিন্ন মিল, ফ্যাক্টরী গড়ে তুলতে পারেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ সভাপতিত্ব ও সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ,আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী মুহম্মদ ফারুক খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।