জাতীয় ঐক্যের ফল শূন্য

দিরাই প্রতিনিধি
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন,‘জাতীয় ঐক্যে কিছুই হবে না, এর ফল শূন্য। এসব দিয়ে কিছুই হবে না।’ দিরাই উপজেলায় বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমি আয়োজিত ‘নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। রোববার দুপুরে বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নির্বাচনকালীন সরকারে কারা থাকবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব আছে তারাই নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে। অন্য কেউ থাকবে না। ২০১৪ সালে যে প্রক্রিয়ায় দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেটাই অবলম্বন করলে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারে। অবাধ-স্বাধীন নির্বাচন হতে পারে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরীক্ষা এই দেশে হয়ে গেছে। তার উদাহরণ এই দেশে আছে।’
বিএনপির মতো একটি বড় দলকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো বিশেষ উদ্যোগ আছে কী-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেই। বিএনপি এক সময় বড় দল ছিল। এখন আছে কি-না আমার সন্দেহ আছে।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনি প্রার্থী হবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘আমি নির্বাচন করতে চাই না। তবে এই আসনে আমাদের দুই জন প্রার্থী আছে, একজন মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ, আরেক জন ড. মোমেন। যেই মনোনয়ন পাবে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা তার পক্ষে অংশগ্রহণ করবে। আমার বিশ্বাস এই নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগ জিতবে।’
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনসেবায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এই দেশের মানুষ ভালো, তাদের কোনো কিছুর সুযোগ দিলে তারা পথ বের করে নেয়। যে কোনো ভালো কাজ করতে পারে।’ শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু চিন্তাভাবনা আছে। কিন্তু আমি সব কিছু গ্রহণ করতে পারি না। তার মানে এই নয় যে, এ সব চিন্তাভাবনা ভালো নয়। সমস্যা হচ্ছে টাকার। প্রধানমন্ত্রী চান একেবারে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত শিক্ষাকে বিনামূল্যে করে দিতে। তার কথা হলো মানুষ শিক্ষিত হলে মানসিকতায় পরিবর্তন আসে, দেশপ্রেম আসে। যে কোনো কাজ করতে পারে। আমি বলেছি, এটা ধীরে ধীরে করতে হবে।’
বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদুস সামাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ কে আবদুল মোমেন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক, সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. এমরান হোসেন, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান।
সেমিনারে এছাড়াও বক্তব্য দেন, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল আলম, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ছবি চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন সিকদার, ফিমেইল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রবাসী কায়েছ চৌধুরী, পলা ইসলাম, আবদুল মোতালেব, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ নাজমা বেগম।