জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সিলেট সফর

হোসেন তওফিক চৌধুরী
আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী। সিলেটের সাথে কবির স্মৃতি অমলিন। তিনি দুবার সিলেট সফর করেছেন। প্রথমবার ১৯২৬ এবং দ্বিতীয়বার ১৯২৮ সালে। প্রথমবারের সফরের চেয়ে তার দ্বিতীয়বারের সিলেট সফর অত্যন্ত তাৎপর্য এবং গুরুত্বপূর্ণ। তার দ্বিতীয়বারের সিলেট সফর সিলেটের সর্বত্র আলোড়ন ও সাড়া জাগায়। দ্বিতীয়বারের সফরে তিনি সিলেটে মাসাধিককাল অবস্থান করেন। এই সফরে বাংলার নয়ন মনি শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং জ্ঞান তাপস ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সম্মানিত অতিথি হিসাবে সিলেট সফরে আসেন। কবি এবং অতিথিদের যথাযোগ্য সংবর্ধনা বরণ করার জন্য সিলেটে একটি নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ বখত মজুমদার সভাপতি এবং তৎকালীন সিলেটের সাপ্তাহিক ‘যুগবাণী’ সম্পাদক মকবুল হোসেন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সংবর্ধনা কমিটি কবি ও অতিথিদের লোকনাথ রতন মনি হলে একটি স্মরণীয় সংবর্ধনা প্রদান করেন। কবি সিলেটে মকবুল হোসেন চৌধুরীর আতিথ্য গ্রহণ করেন এবং তার দরগামহল্লাস্থিত ভাদেশ্বর লজে অবস্থান করেন। এই সময়ে ভাদেশ্বর লজ একটি প্রাণবন্ত তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং কবিকে দর্শন, কবির কথা ও গান শোনার জন্য ভিড় লেগেই থাকতো। এই সময়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, আব্দুল্লাহ বিএল, কবি সরেকওম ওবায়দুল্লাহ, গিয়াস উদ্দিন আহমদ (সাবেক বিভাগীয় কমিশনার), আলী আশরাফ প্রমুখ সব সময়ে কবিতে সঙ্গদান করেছেন। কবিও তাদেরকে নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করতেন। কবির সিলেট সফরের উপর ভিত্তি করে কবি সরেকওম ওবায়দুল্লাহ ও দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ লিখেছেন। কবির সাথে আগত ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর পুত্র শফি উল্লাহ প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ লিখেছেন। ইতমধ্যে বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকগণ নজরুলের সিলেট সফর সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন। তন্মধ্যে আব্দুল মন্নান সৈয়দ, রাগিব হোসেন চৌধুরী, আব্দুল হামিদ মানিক, নৃপেন্দ্র লাল দাস প্রমুখের রচনা সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
কবি সিলেট সফর সিলেটের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। তার এই সফর সিলেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন। উপরের ছবিটি নজরুলের সিলেট সফরকালে সিলেটের সুধীজনদের সাথে গৃহীত। এই ছবিতে তৎকালীন যুগবাণী সম্পাদক মকবুল হোসেন চৌধুরী রয়েছেন। (সর্ব ডানে)
লেখক : আইনজীবী-কলামিষ্ট