জামালগঞ্জে গুচ্ছগ্রাম বদলে দিয়েছে গৃহহীন মানুষের জীবনমান

জামালগঞ্জ সংবাদদাতা
জামালগঞ্জ উপজেলায় গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বদলে দিয়েছে গৃহহীন মানুষের জীবনমান। যেখানে আগে নুন আনতে পানতা ফুরানোর চিন্তায় অস্থির থাকত গৃহহীন মানুষ এখন তারা অনেকেই স্বাবলম্বী। কেউবা জীবনের গতিপথ বদলাতে নিরন্তন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এক বছর আগেও নিজেদের কোন আশ্রয় ছিল না। থাকতেন অন্যের বাড়িতে অথবা পথেঘাটে। মাথাগুজার ঠাঁই পেয়ে জীবন বদলে যাচ্ছে তাদের। চোখে-মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। সংসার স্বচ্ছলতা আনতে সংগ্রাম করছে তারা।
সত্তর বছরের বৃদ্ধা খায়রুন নেছা জানান, আগে অনেক কষ্টে ছিলাম। সে কথা মনে হলে কান্না আসে। আগে থাকতাম অন্যের বারান্দায়। জীবন যুদ্ধের এসব গল্প জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের আটগাঁও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে আশ্রয় পাওয়া রহিফুন্নেছা, মনমালা, জালাল উদ্দিন, আম্বিয়া খাতুন, সাফিয়া খাতুনসহ সকলের। যাদের নিজের কোন জমি ছিল না, ছিল না কোন ঘর। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে পেয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। এখন স্বপ্ন দেখছেন জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের।
তারা আরও জানান, এখানে আসার পর সেলাই মেশিন কিনেছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। সংসারে আয়ের সাথে ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে কেউ হাঁস-মুরগী পালন করছে, কেউ ছাগলভেড়া পালন করছে। কেউ শাকসব্জি চাষ করে নিজের খরচের পাশাপাশি বাড়তি আয় করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আটগাঁও গুচ্ছগ্রামে ৬০টি পরিবারকে রান্নাঘর, টয়লেটসহ টিনের ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহহীন ও ভূমিহীন লোকদেরকে খুঁজে এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এদের আয়ের সংস্থানের জন্য কমিউনিটির মাধ্যমে এক একর জায়গায় মৎস্য চাষ করার জন্য একটি পুকুর ও কমিউনিটি সেন্টার করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিয়ে-সাদিসহ কমিউনিটির উন্নয়নমূলক কাজ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখন ব্র্যাক স্কুলে প্রতিদিন ৩০ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে। পাশের মাদ্রাসায় ১২ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। তাদের প্রত্যেককে বন্ধু তোলাসহ ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।