জামালগঞ্জে দুই পোড় খাওয়া রাজনীতিকের লড়াই আজ

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী কাল জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই উপজেলা নির্বাচনে লড়ছেন দুই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। একজন মুক্তিযোদ্ধা, ৬ বারের জনপ্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হিসাবে এলাকায় পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ। আরেকজন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রেজাউল করিম শামীম। স্থানীয়ভাবে বলা হয়, একজন সহজ সরল ‘ভালো মানুষ’, আরেকজন ‘পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ’।
এই দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার হয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপিও। বিএনপি নিজেরা প্রার্থী না দিলেও দুই প্রার্থীর পক্ষে বিভক্ত হয়ে সক্রিয় প্রচারণায় যুক্ত আছে।
ইউসুফ আল আজাদ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং তাঁর বাবা প্রয়াত আব্দুর রহমান তালুকদার আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হওয়ায় আওয়ামী লীগের ভোটার সমর্থক এবং দলীয় নেতা এবং উপজেলার ৪ ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় সরকার দলীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং এই উপজেলার বাসিন্দা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহ্রিয়ার’এর সমর্থকদেরও সহযোগিতা পাচ্ছেন।
রেজাউল করিম শামীম (মোটর সাইকেল) স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। তাঁর বাবা সাদেক আলীও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। আবার যারা নৌকায় ভোট দিতে চান না, তাদেরও সমর্থন রয়েছে তাঁর প্রতি। সব মিলিয়ে ষাটোর্ধ এই দুই রাজনীতিকের (মঙ্গলবার) নির্বাচনী লড়াইয়ে সহযোগিতা করতে অন্য উপজেলা থেকেও জামালগঞ্জে এসেছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
উপজেলা বিএনপি’র দুই প্রভাবশালী নেতা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি শুরু থেকেই প্রকাশ্যে প্রচারণায় ছিলেন রেজাউল করিম শামীমের পক্ষে। একইভাবে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শামছুল আলম তালুকদার ঝুনুও প্রচারণার শুরু থেকেই ইউসুফ আল আজাদের পক্ষে।
নিজ নিজ সমর্থিত প্রার্থীকে কেন ভোট দেবেন ভোটাররা, এমন প্রশ্নের জবাবে শামছুল আলম তালুকদার ঝুনু বলেন, একজন সৎ, ভালো মানুষ তিনি, একাধিকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। ভোট না দেবার মতো কোন অভিযোগ তুলতে পারছে না বিরোধীরাও। তিনি কারো ভাল না করতে পারলেও খারাপ কখনোই করেননি।
নুরুল হক আফিন্দি বলেন, ভোট নিরপেক্ষ হবে এবং আমরা অনেক এগিয়ে থাকবো। একজন আপাদমস্তক রাজনৈতিক কর্মী, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ রেজাউল করিম শামীম। তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। এজন্যই তাকে ভোট দেবেন সাধারণেরা।
জানা যায়, আজ (মঙ্গলবার) উপজেলার ১ লাখ ১২ হাজার ৭২২ জন ভোটার ৪৬ টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৫৬ হাজার ৪২৬ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছেন ৫৬ হাজার ২৬০ জন। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য ৪৬ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২৮৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৫৭৪ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা রশিদ আহমদ (আনারস), ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা পদে ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সোমবার দুপুর থেকে ৪৬ টি কেন্দ্রে’র ৪৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৮৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৫৭৪ জন পোলিং অফিসারের কাছে মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল ও জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল আলম জানান, শান্তিপূর্ণ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন তাঁরা।
গত ১০ মার্চ রোববার জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হবার কথা ছিল। ৮ মার্চ শুক্রবার রাত পৌনে নয়টায় সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশন থেকে এই উপজেলার নির্বাচন স্থগিতের কথা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে এই উপজেলায় ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয় মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।